রান্নায় যে সমস্ত উপকরণ ব্যবহার করা হয় তা কমবেশি সবই উপকারে লাগে । তার মধ্যে হিং অন্যতম । সুগন্ধিযুক্ত মসলা। সকালে গরম গরম হিনার কচুরি তার সাথে আলুর দম অপূর্ব স্বাদ। বহু প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ এবং রান্নায় ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি মূলত একটি গাছের রেজিনজাত পদার্থ, যার গন্ধ প্রথমে তীব্র মনে হলেও রান্নায় ব্যবহার করলে খাবারে অনন্য স্বাদ ও হজমে সহায়ক হয়।

হিং-এর অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো হজম শক্তি বৃদ্ধি। এটি পেটের গ্যাস, বমি ভাব, বদহজম এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় দারুণ কার্যকর। যারা প্রায়শই পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন, তাদের জন্য এক চিমটি হিং গরম জলে মিশিয়ে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়াও হিং-এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ থাকায় এটি সর্দি, কাশি এবং ফুসফুসের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। অনেকে গরম জল বা ভাপের সঙ্গে হিং ব্যবহার করে ঠান্ডা লাগা উপশমে ব্যবহার করে থাকেন।

মহিলাদের জন্য হিং খুবই উপকারী, কারণ এটি ঋতুস্রাবজনিত ব্যথা ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া হিং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, কারণ এটি রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে এবং রক্তনালীর চাপ হ্রাস করে।

চুলকানি বা ত্বকে চুলকানিজনিত সমস্যা হলেও হিং ও জল মিশিয়ে পেস্ট করে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

তবে অল্প পরিমাণে নিয়মিত হিং গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও অতিরিক্ত হিং খেলে পেটের গণ্ডগোল বা অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণেই হিং ব্যবহার করা উচিত।