আখের গুড় একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি পদার্থ, যা আখ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এটি প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং নানা ধরনের উপকারিতার জন্য পরিচিত।  এটি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। চিনি বা প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির তুলনায় গুড় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর।

আখের গুড়ে থাকে আয়রন, যা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত গুড় খাওয়ার মাধ্যমে দেহে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে।

গুড় হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এটি পাচনতন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় করে এবং পেটের গ্যাস, অম্লত্ব ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তাই অনেক সময় ভারী খাবারের পর এক চিমটি গুড় খাওয়া পরামর্শ দেওয়া হয়।

গুড়ে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ পদার্থ (যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়াম) হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করে, ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।

আখের গুড় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় যেমন সর্দি, কাশি, হাঁপানি ইত্যাদিতে আরাম দেয়। গরম দুধে বা আদা-চায়ে গুড় মিশিয়ে খেলে গলার ব্যথা কমে এবং কফ সহজে বের হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবেও কাজ করে।

এছাড়া, গুড় খেলে ক্লান্তি দূর হয় ও শক্তি ফিরে আসে, কারণ এটি ধীরে ধীরে শর্করা সরবরাহ করে, যা রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে খাওয়া প্রয়োজন হলেও স্বাভাবিক মানুষের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।