রামনবমী হল হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা ভগবান শ্রী রামের জন্মোৎসব হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটি চৈত্র মাসের শুক্ল নবমী তিথিতে উদযাপন করা হয় এবং সারা ভারতজুড়ে ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে এই দিবসটি পালন করে থাকেন। রামনবমীতে লাড্ডু বিতরণ একটি প্রচলিত প্রথা, যার পেছনে রয়েছে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য।
ভগবান রামের জন্মোৎসব হওয়ায় রামনবমী একটি আনন্দের উপলক্ষ। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, ভগবানের জন্ম উপলক্ষে ভোগ বা প্রসাদ হিসেবে মিষ্টি বিতরণ করা এক ঐতিহ্যবাহী রীতি। লাড্ডু হিন্দু সমাজে শুভ ও মঙ্গলজনক প্রতীকেরূপে বিবেচিত। এটি যেমন সহজে তৈরি করা যায়, তেমনি সবার পছন্দের একটি মিষ্টান্নও বটে। এই কারণে রামনবমীতে লাড্ডু বিতরণ করা হয়, যেন সবাই ঈশ্বরের কৃপা ও আনন্দে ভাগীদার হতে পারেন।
তদুপরি, অনেক মন্দিরে “লাড্ডু প্রসাদ” বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অযোধ্যা সহ বিভিন্ন স্থানে রাম মন্দিরে এই দিনে হাজার হাজার ভক্তদের মাঝে লাড্ডু প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, সামাজিক মিলনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। লাড্ডু বিতরণের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেয় এবং ধর্মীয় উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সংক্ষেপে বলা যায়, রামনবমীতে লাড্ডু বিতরণ একটি আনন্দ ও ভক্তির প্রতীক, যা রামভক্তদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও শুভেচ্ছা ছড়িয়ে দেয়।
রামনবমীতে এই কাজগুলো করুন:
* গৃহ পরিষ্কার ও পবিত্রতা বজায় রাখুন: ঘর পরিষ্কার করে নিন। বিশেষ করে পূজার ঘর পরিষ্কার করে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন।
* রামনবমীর দিন সূর্যোদয়ের পর স্নান করে সাদা বা হলুদ বস্ত্র ধারণ করুন। শুদ্ধ চেতনা নিয়ে দিন শুরু করলে পূর্ণ ফল লাভ হয়।
* রাম নামের জপ করুন। এ ‘শ্রী রাম, জয় রাম, জয় জয় রাম’ মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয় ও পুণ্য লাভ হয়।
*ভোগ রান্না: রামনবমীর বিশেষ ভোগ হিসেবে পান্তুয়া, সুজি হালুয়া, খিচুড়ি, সবজি, লাবড়া ও ফলমূল , লাড্ডু পরিবেশন করা হয়। সকালে রান্না করে পূজার পর প্রসাদ বিতরণ করুন।