পিতৃপক্ষ হলো হিন্দুধর্মের একটি বিশেষ সময়, যা পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য উৎসর্গীকৃত। এটি সাধারণত মহালয়ার আগের ১৫-১৬ দিনের সময়কাল। এই সময়টিকে 'অপরপক্ষ' বা 'ষোলা শ্রাদ্ধ' নামেও ডাকা হয়।হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রয়াত পূর্বপুরুষরা স্বর্গত পিতৃলোক থেকে মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। জীবিত বংশধররা তাঁদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এই কাজগুলো করার মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে মনে করা হয়।পিতৃপক্ষের শেষ দিনটি হলো মহালয়া, যার পরেই শুরু হয় দেবীপক্ষ এবং দুর্গা পূজার আগমনী।
পিতৃপক্ষের মূল তিনটি বিষয় হল তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও দান।
তর্পণ: পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল, তিল, ফুল ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। এটি তাঁদের তৃপ্ত করার একটি পদ্ধতি।
শ্রাদ্ধ: পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ পূজা ও পারলৌকিক ক্রিয়া করা হয়।
দান: ব্রাহ্মণ বা দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দান করা হয়।
পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ কার্যে মেনে চলুন এই নিয়ম
- পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ তিথি অনুযায়ী পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ করা হয়।
- যেই তিথিতে পূর্বপুরুষদের মৃত্য হয়েছিল, এই পক্ষের সময় সেই তিথিতেই শ্রাদ্ধ কর্ম করা যাবে।
- শ্রাদ্ধ ও তর্পণের দিনে পূর্বপুরুষের পছন্দের খাবার রান্না করবেন।
- এই তিথিতে ব্রাহ্মণ, কাক, গোরু, বিড়াল, কুকুরকে অবশ্যই খাবার খাওয়াবেন। একে পঞ্চবলি বলা হয়।
- পিতৃপক্ষে যে তিথিতে শ্রাদ্ধকর্ম করবেন, সেই তিথিতে সবার আগে তর্পণ করুন।
- কালো তিল, যব ও জল দিয়ে পূর্বপুরুষদের অর্ঘ্য দিন।
- শ্রাদ্ধপক্ষে প্রতিদিন তর্পণ করা অত্যন্ত শুভ। আবার পিতৃপক্ষে দান করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
- যে কোনও তিথিতে এই দান করতে পারেন। তবে যে তিথিতে পূর্বপুরুষদের শ্রাদ্ধ রয়েছে, সেই তিথিতে অবশ্যই দান করবেন।
- এই সময়টাকে সাধারণত যেকোনো শুভ কাজ, যেমন বিয়ে বা নতুন কোনো উদ্যোগের জন্য অশুভ বলে মনে করা হয়।