সন্তানের মঙ্গল কামনায় পালিত হয় নীল ষষ্ঠী। নীল ষষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রত, সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত পালন করেন। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তির চড়কের আগের দিন নীলষষ্ঠীর ব্রত পালন করা হয়। এই ব্রতে মহিলারা উপবাস রেখে দেবাদিদেব মহাদেব এবং মাতা পার্বতীর আরাধনা করেন এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ বা বাতি জ্বালিয়ে মহাদেব এবং পার্বতীর কাছে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন । কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, মা পার্বতী মা ষষ্ঠী হয়ে সন্তানদের রক্ষা করেন। অনেক জায়গায় এটি শিবের সাথে পার্বতীর মিলনের প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়।
২০২৫ সালে নীল ষষ্ঠী পালিত হবে ১৩ এপ্রিল, রবিবার। প্রতিপদ তিথি শুরু প্রাতঃ ৫টা ৫২ মিনিট। অমৃতযোগ— সকাল ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৯টা ৩২ মিনিট, পুনরায় সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৮টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত।
নীলপুজোর ব্রত পালনের উপকরণ গঙ্গামাটি বা শুদ্ধ মাটি, বেল পাতা, গঙ্গা জল, দুধ, দই, ঘি, মধু, কলা, বেল, বেলের কাঁটা ও মহাদেবের পছন্দের কোনও ফুল।
ব্রত পালনের নিয়ম :
উপবাস ও ব্রত পালন: মহিলারা এদিন উপবাস রাখেন, অনেক সময় ফলাহার করেন বা নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন। সন্ধ্যাবেলা শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। শিবের মাথায় ফুল,বেলপাতা ও একটি ফল ছুঁয়ে রাখতে হয়। অপরাজিতার মালা পড়ানো হয় দেবতাকে।
এদিন ফল,সাবু এবং ময়দার তৈরি খাবার খেতে হয়। কোন চালের জিনিস খেতে নেই।
বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে বহু ব্রত ও পুজোর দেখা মেলে, যার প্রতিটি আবেগে জড়িয়ে থাকে মা ও সন্তানের সম্পর্কের অদৃশ্য সুতোগুলো। তেমনই এক বিশেষ ব্রত নীল ষষ্ঠী, যা ২০২৫ সালে পালিত হবে ১৩ই এপ্রিল, রবিবার। এই দিনটিতে দেবী পার্বতী ও দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো করে মায়েরা সন্তানদের মঙ্গল কামনা করেন এবং উপবাস থাকেন।
নীল ষষ্ঠী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি মাতৃস্নেহের নিঃশব্দ প্রকাশ। সন্তানের প্রতি একজন মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও নিরন্তর প্রার্থনার এই দিনে শিব ও মা পার্বতীর পুজোর মাধ্যমে সেই স্নেহ ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। ঐতিহ্য, ধর্ম এবং আত্মিক সংযোগে গাঁথা এই ব্রত আজও সমান প্রাসঙ্গিক — কারণ সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়ের আশীর্বাদই যে জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।