Female Masturbation: আগামিকাল, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে যৌন স্বাস্থ্য সচেতনা সপ্তাহ। ১৫-২১ সেপ্টেম্বর পালিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তথ্য জেনে মহিলাদের নিজেদের যৌনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আজকের এই প্রতিবেদনে থাকল মহিলাদের হস্তমৈথুন নিয়ে কিছু ভুল ধারণার কথা। সমাজে এখনও অনেক ট্যাবু থাকলেও গবেষণা বলছে, মহিলা হস্তমৈথুন একেবারেই স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর একটি অভ্যাস। কিন্সে ইনস্টিটিউটের সমীক্ষা অনুযায়ী, দুনিয়ার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মহিলাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হস্তমৈথুন করেছেন। বয়স, বিবাহিত বা অবিবাহিত অবস্থা, এইসব বিষয়গুলি কোনো কিছুই এর অন্তরায় নয়।
মহিলাদের হস্তমৈথুনের শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা:
মানসিক চাপ কমায়: অর্গাজমের সময় এন্ডরফিন ও অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়, যা মহিলাদের মনের চাপ কমায়।
ভালো ঘুম আনে: বিশেষত অনিদ্রায় ভোগা মহিলাদের জন্য হরমোনাল রিলিজ ঘুমের মান উন্নত করে।
পেলভিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে: হস্তমৈথুন পেলভিক মাংসপেশি শক্তিশালী করে, যা মূত্রনিয়ন্ত্রণ ও যৌনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
পিরিয়ডের ব্যথা ও মাথাব্যথা কমায়: রক্তসঞ্চালন বাড়ায় ও টেনশন কমায়।
আত্মবিশ্বাস ও যৌন সন্তুষ্টি বাড়ায়: মহিলাদের হস্তমৈথুন শরীর ও মনের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তোলে, ফলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং যৌন জীবনে সন্তুষ্টি আসে।
২০২০ সালের জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিন-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, হস্তমৈথুন মহিলাদের শরীর সম্পর্কে সচেতন করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং যৌনজীবনকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত
হস্তমৈথুন যৌন কার্যকলাপের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ। গর্ভধারণ বা যৌনরোগের ঝুঁকি নেই। তবে হাত, খেলনা বা ব্যবহৃত যন্ত্র পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে ইনফেকশন না হয়।
নানা ধরণের কৌশল
নারী অর্গাজমের জন্য প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্লিটোরাল স্টিমুলেশন প্রধান ভূমিকা রাখে। কেউ ক্লিটোরাল টাচ পছন্দ করেন, কেউ ভ্যাজাইনাল এক্সপ্লোরেশন, আবার অনেকে ভাইব্রেটর বা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সঠিক বা ভুল কিছু নেই, যা স্বাচ্ছন্দ্যকর তাই বেছে নেওয়া উচিত।
ভুল ধারণা, মিথ ভাঙা
সমাজের ট্যাবু এখনও অনেককে অপরাধবোধে ভোগায়। কিন্তু হস্তমৈথুন আসক্তি তৈরি করে না, শরীর নষ্ট করে না, সন্তানধারণ ক্ষমতা কমায় না, কিংবা সম্পর্ক ভেঙে দেয় না। বরং সম্পর্কের মধ্যে থেকেও অনেক নারী যৌন আনন্দ বাড়ানোর জন্য হস্তমৈথুন করেন।
মেনোপজের পরেও উপকারী
মেনোপজের পরেও হস্তমৈথুন যোনির স্বাস্থ্যে সাহায্য করে, প্রাকৃতিক লুব্রিকেশন বজায় রাখে এবং কামেচ্ছা জাগ্রত রাখে।
প্রযুক্তি ও নতুন সরঞ্জাম
বর্তমানে বাজারে নারী-নির্দিষ্ট ভাইব্রেটর, অ্যাপ-কন্ট্রোলড ডিভাইস ইত্যাদি পাওয়া যায়। এগুলো বেছে নেওয়ার সময় চিকিৎসাগতভাবে নিরাপদ উপকরণ যেমন মেডিক্যাল-গ্রেড সিলিকন ব্যবহার করা জরুরি।
আবেগ ও নিজের যত্ন
অনেক নারীর জন্য হস্তমৈথুন মানসিক স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার অনুভূতি আনে। তবে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে অপরাধবোধ তৈরি হলে কাউন্সেলিং বা থেরাপির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
যা মনে রাখা জরুরি
হস্তমৈথুনের কোনও "সঠিক ফ্রিকোয়েন্সি" নেই। নিজের শরীরের সাড়া শুনুন। ব্যথা, অস্বস্তি বা অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থাকলে ডাক্তার বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে এক্সপ্লোর করুন।