Hospital, Representational Image (Photo Credit: File Photo)

চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি নতুন গবেষণায় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা 'হেমাটুরিয়া' (Hematuria) নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়ার পর যদি দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু না করা হয়, তবে প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ার ঝুঁকি থাকে মাত্র তিন মাসের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত মূত্রথলি বা কিডনির কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা অবহেলা করলে প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষণার মূল ফলাফল

এই গবেষণায় হাজার হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রস্রাবে রক্ত আসা সবসময় যন্ত্রণাদায়ক হয় না, আর ঠিক এখানেই লুকিয়ে থাকে বিপদ। ব্যথাহীন রক্তপাতকে অনেকেই সাধারণ সংক্রমণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু দেখা গেছে, এই লক্ষণটি যাদের মধ্যে ছিল, তাদের একটি বড় অংশের শরীরে পরবর্তীকালে ক্যান্সার বা মারাত্মক কিডনি বিকল হওয়ার সমস্যা ধরা পড়েছে। সঠিক সময়ে স্ক্যান বা বায়োপসি না হওয়ার কারণে রোগটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন ৩ মাসের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষকদের মতে, প্রস্রাবে রক্ত আসা কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি অন্তর্নিহিত গুরুতর সমস্যার উপসর্গ। যদি এটি ক্যান্সারের কারণে হয়, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কিন্তু রক্তপাত শুরু হওয়ার পর প্রথম ৯০ দিন বা ৩ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে টিউমার বা সংক্রমণ এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা চিকিৎসকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

হেমাটুরিয়ার সাধারণ কারণসমূহ

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:

মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)

কিডনিতে পাথর হওয়া

মূত্রথলি বা প্রোস্টেট ক্যান্সার

কিডনির গুরুতর প্রদাহ

অত্যধিক ব্যায়াম বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যদি একবারও প্রস্রাবের সঙ্গে সামান্য রক্ত দেখা যায়, তবে দেরি না করে ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসাউন্ড বা সিস্টোস্কোপির মতো পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রক্তপাতের কারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা সম্ভব।