Nora Fatehi (Photo Credit: Instagram)

দিল্লি, ২১ অগাস্ট: তিন ঘণ্টা ধরে শরীর চর্চা করতে হবে। ৩ ঘণ্টা ধরে যদি শরীর চর্চা করতে না পারে বউ, তাহলে খেতে দেওয়া হবে না। শ্বশুরবাড়ির এমনই নিদান। শ্বশুর, শাশুড়ির সেই অমানবিক আচরণে জড়িত তাঁর স্বামীও। কেন জানেন?

স্বামীর দিবি, তিনি ওই মেয়েকে বিয়ে করে ঠকে গিয়েছেন। তিনি যেমন, তাতে তিনি বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফতেহির (Nora Fatehi) মত কাউকে জীবনসঙ্গী করতে পারতেন। আর সেই কারণে স্ত্রীকে ঠিক নোরা ফতেহির মত তৈরি করতে, তাঁকে দিয়ে ঘণ্টা ৩ ধরে টানা শরীর চর্চা করাত ওই ব্যক্তি। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজ়িয়াবাদ (Ghaziabad) থেকে এবার এমনই একটি অভিযোগ প্রকাশ্যে এল।

স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। তিনি অভিযোগ, তাঁকে নোরা ফতেহির মত শরীর তৈরি করতে হবে। না হলে খাবার পাবেন না। এমন নির্দেশ বার বার দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মেয়েদের প্রতি আকর্ষিত তাঁর স্বামী। তাই দিনভর মোবাইলে বিভিন্ন মহিলাদের থবি, ভিডিয়ো ঘেটে বেড়ায় ওই ব্যক্তি। বিবিন্ন ধরনের অশ্লীল ভিডিয়োও (Obscene Video) দেখতে থাকে বলে স্ত্রী অভিযোগ করেন।

বিয়ের সময় ৭৭ লক্ষ টাকা দেয় শ্বশুরবাড়ি থেকে

গত ৬ মার্চ সানভির বিয়ে হয় শিবমের সঙ্গে। বিয়ের সময় সোনা, গয়না মিলিয়ে জামাই শিবমকে ৭৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়ির তরফে।  সেই সঙ্গে মাহিন্দ্রা স্করপিও-ও দেওয়া হয় জামাইকে।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে সানভি সংসার করতে যান শ্বশুরবাড়িতে। তবে সুখের সংসার ক্রমশ তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন পরিণত হয়। স্বামীর সঙ্গে কোনওভাবে সময় কাটাতে দিতেন না শাশুড়ি। ঘরের কাজে বউমা তিনি সব সময় ব্যস্ত রাখতেন। এমনকী শিবমের সঙ্গে বাইরে কোথাও বউমাকেও যেতেও শাশুড়ি দিত না বলে অভিযোগ।

শারীরিক অত্যাচার চলত নোরা ফতেহির মত দেখতে হতে হবে বলে

সানভিকে নোরা ফতেহির মত দেখতে হতে হবে। তবেই শিবমের সঙ্গে তাঁকে মানাবে। এমন কথা প্রায়শই শ্বশুরবাড়ির তরফে করা হত। সেই সঙ্গে তিন ঘণ্টা ধরে সানভিকে শরীর চর্চা করতে হবে নোরার মত সুন্দর হতে গেলে। না হলে সানভি খাবার পাবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

এরপরই প্রায় নিত্যদিন শিবম এবং তার বাড়ির লোকজন সানভির উপর অত্যাচার শুরু করে। গালি গালাজ থেকে শারীরিক নিগ্রহ চলতেই থাকে বলে অভিযোগ করেন সানভি।

জোর করে গর্ভপাত 

এসবর অত্যাচারের মাঝে সানভি একদিন সুখবর পান। জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। যে খবর ছুটি গিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে জানান। খুশির খবর শুনে প্রত্যেকে তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানোর জন্য।

এরপর ননদ রুচি তাঁর জন্য ওষুধ নিয়ে বাড়িতে আসে। যে ওষুধ জোর করে খাইয়ে তাঁকে গর্ভপাত করানো হয় বলে অবিয়োগ করেন সানভি।

যা শুনে স্বামী শিবম জানায়, সানভিকে যেমন সে মেনে নেয়নি, তেমনি ওই সন্তানকেও মেনে নেবে না। এরপরই সানভির গর্ভপাত করানো হয় জোর করে। এরপরই সানভি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সোজা থানায় হাজির হন এবং সেই বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষের অত্যাচারের কথা খুলে জানান পুলিশকে।