ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ ২০২৬ সালে মে মাসের শেষ দিকে উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা এবং হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে এই উৎসব ২৭ মে ২০২৬ (বুধবার) অথবা ২৮ মে ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) পালিত হতে পারে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও প্রকৃত তারিখ নির্ভর করবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর।
তারিখ নির্ধারণে চাঁদের ভূমিকা
ইসলামিক ক্যালেন্ডার চন্দ্রনির্ভর হওয়ায় প্রতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তুলনায় ঈদের তারিখ ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। ২০২৬ সালে জিলহজ মাসের চাঁদ যদি ১৮ মে দেখা যায়, তবে ১০ জিলহজ অর্থাৎ ঈদুল আযহা ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি চাঁদ ১৯ মে দেখা যায়, তবে উৎসবটি ২৮ মে পালিত হবে। সাধারণত সৌদি আরবে ঈদ পালনের একদিন পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ঈদ উদযাপিত হয়।
ঈদুল আযহার ধর্মীয় গুরুত্ব
ঈদুল আযহা মূলত ত্যাগের উৎসব। এটি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আল্লাহর প্রতি অসীম আনুগত্য এবং তাঁর পুত্রকে উৎসর্গ করার প্রস্তুতির স্মরণে পালিত হয়। এই দিনটিতে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি দেন এবং সেই মাংস আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করেন। এটি ভ্রাতৃত্ব এবং সামাজিক সাম্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটি ও প্রস্তুতি
ভারত এবং বাংলাদেশে ঈদুল আযহা উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালে মে মাসের শেষ সপ্তাহে এই ঈদ পড়ায় গরমের তীব্রতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদের কেনাকাটা ও কোরবানির পশু সংগ্রহের প্রস্তুতি উৎসবের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে।
ঈদুল আযহার সঙ্গে পবিত্র হজের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। হজের প্রধান রোকন অর্থাৎ আরাফাতের দিন ঈদের ঠিক আগের দিন পালিত হয়। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২৬ মে আরাফাতের দিন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসলমান এদিন মক্কায় সমবেত হন। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরের দিনই বিশ্বজুড়ে আনন্দ ও ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়।