১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়ে ইংল্যান্ডে ১৯৮৩ সালের একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল। ১৯৮৩ এর এই বিশ্বকাপে কপিলের নেতৃত্বে ভারত ছিল আন্ডারডগ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বা ভারতের ক্রীড়াপ্রেমী কেউই ভাবেনি এই দল নিয়ে গ্রুপ পর্ব টপকাতে পারবে তারা।কিন্তু সমস্ত হিসাবকে উলটে দিয়ে নবাগত অধিনায়ক কপিলের অধিনায়কত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথম একদিনের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতীয় দল। ১৯৮৩ সালে ভারতের জয় ভারতীয় ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল।কারণ এই জয় ভারতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছিল। আজকের এই বিশেষ দিনে ঘুরে আসা ১৯৮৩ এর ভারতীয় ক্রিকেটের জার্নিতে-
🗓️ #OnThisDay in 1983
📍 Lord's
A historic day & a landmark moment for Indian cricket 🙌🏻#TeamIndia, led by the legendary @therealkapildev clinched the World Cup title 🏆🫡 pic.twitter.com/lATU8lrs2j
— BCCI (@BCCI) June 25, 2025
গ্রুপ পর্বের ম্যাচঃ-
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৮৩ এর বিশ্বকাপে ভারতের 'বি'গ্রুপে অন্য তিনটি দল ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া এবং জিম্বাবুয়ে। তিনটি দলের সাথে দু 'বার করে খেলা হয়েছিল।টুর্নামেন্টে ভারতের প্রথম ম্যাচ ছিল ম্যানচেস্টারে দুইবারের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ভারত ৩৪ রানে একটি অপ্রত্যাশিত জয় পায়। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২৬২ রান করে, যশপাল শর্মা সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন এবং তারপর রজার বিনি এবং রবি শাস্ত্রী তিনটি করে উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২২৮ রানে অলআউট করে।
লিসেস্টারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারত তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়লাভ করে । মদন লাল তিনটি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১৫৫ রানে থামিয়ে দেন এবং সন্দীপ পাতিল সর্বোচ্চ ৫০ রান করে লক্ষ্য তাড়া করেন।
নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে ভারত পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১৬২ রানে হেরে যায় । প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৩২০ রান করে এবং পরে ভারত ১৫৮ রানে অলআউট হয়।
লন্ডনের ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারত তাদের চতুর্থ ম্যাচে ৬৬ রানে হেরে যায় । ২৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ২১৬ রানে অলআউট হয়ে যায়, যার মধ্যে মহিন্দর অমরনাথ সর্বোচ্চ ৮০ রান করেন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে, টুনব্রিজ ওয়েলসে ভারত জিম্বাবুয়েকে ৩১ রানে পরাজিত করে । ভারত প্রথম পাঁচ উইকেট ১৭ রানে হারায়, এরপর অধিনায়ক কপিল দেব ১৩৮ বলে ১৭৫ রান করেন, যা তখন ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচটি হয়েছিল চেমসফোর্ডে । প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২৪৭ রান করে এবং জয়ের জন্য ২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। মদনলাল এবং বিনি চারটি করে উইকেট নেন। ভারত তাদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এবং প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
সেমি-ফাইনালঃ-
ভারতের সেমিফাইনাল ম্যাচটি ছিল ম্যানচেস্টারে আয়োজক দেশ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ২১৩ রানে অলআউট হয়। কপিলদেব তিনটি উইকেট নেন। শর্মা এবং পাতিলের অর্ধশতকের সুবাদে ভারত লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জয়লাভ করে এবং ভারত প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠে।
বিশ্বকাপ ফাইনালঃ-
২৫ জুন ১৯৮৩ সালে লন্ডনের লর্ডসে ফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয় ভারত। ফাইনালে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ১৮৩ রানে অলআউট হয়। কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪০ রানে অলআউট হয়। অমরনাথ এবং মদনলাল তিনটি করে উইকেট নেন। এর ফলে ,ভারত তাদের প্রথম এক দিনের বিশ্বকাপ জয় করে ৪৩ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে।সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল উভয় খেলায় অমরনাথকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ দেওয়া হয়। বিন্নি ১৮টি ডিসমিসাল নিয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে স্থান করে নেন।