রমজানের পবিত্র মাস এখন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক দশকে পদার্পণ করছে. ভারতে এই বছরের চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামীকাল ১০ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত থেকে রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় বা ‘তাাক’ রাতগুলো শুরু হচ্ছে. মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিজোড় রাতগুলোর মধ্যেই নিহিত রয়েছে ‘শবে কদর’ বা ‘লাইলাতুল কদর’, যা ইবাদতের জন্য হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত. আগামীকাল সূর্যাস্তের পর থেকেই ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রথম বিজোড় রাতের (২১তম রমজান) ইবাদতে মগ্ন হবেন.
২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখসমূহ
ভারতে এ বছর রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে নিচের তারিখগুলোতে পড়বে:
২১তম রাত: ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত.
২৩তম রাত: ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত.
২৫তম রাত: ১৪ মার্চ (শনিবার) দিবাগত রাত.
২৭তম রাত: ১৬ মার্চ (সোমবার) দিবাগত রাত.
২৯তম রাত: ১৮ মার্চ (বুধবার) দিবাগত রাত.



ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তার গুরুত্ব
শবে কদর উপলক্ষে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপগুলোতে একে অপরকে ক্ষমা ও দোয়ার বার্তা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে. তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, বার্তাগুলো যেন কেবল প্রথাগত না হয়ে অর্থবহ হয়. চলতি বছর মানুষ একে অপরকে আত্মশুদ্ধি এবং ভ্রাতৃত্ববোধের আহ্বান জানিয়ে বার্তা পাঠাচ্ছেন. বিশেষ করে, "এই পবিত্র রাতে আল্লাহ আমাদের তকদির পরিবর্তন করুন এবং একে অপরকে ক্ষমা করার শক্তি দিন"—এ ধরণের গভীর ভাবপূর্ণ বার্তাগুলো এই প্রজন্মের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে.
শবে কদরের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
ইসলামিক শাস্ত্র অনুযায়ী, এই রাতেই জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়. এই রজনীকে ‘তকদিরের রাত’ বলা হয় কারণ বিশ্বাস করা হয় যে, ফেরেশতারা এই রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং আগামী এক বছরের জন্য মানুষের ভাগ্য ও রিজিক নির্ধারণ করেন. এই রাতে ইবাদত করা ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমান পুণ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয়.
ইবাদত ও দোয়ার মাহাত্ম্য
শবে কদরের রাতে প্রধান ইবাদত হলো নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং তওবা বা ক্ষমা প্রার্থনা. এই রাতের সবচেয়ে শক্তিশালী দোয়া হলো— "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি" (হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন). ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করেন, কেবল রাত জেগে থাকা নয়, বরং হৃদয়ের পরিবর্তন এবং মানুষের সেবা করার মানসিকতা তৈরি করাই এই রাতের আসল শিক্ষা.