প্রাকৃতিক উপাদানগুলি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ওষুধের মতো কাজ করে । এমনই একটি উপকারী সংমিশ্রণ হলো কালো জিরা, রসুন এবং সাদা তিল। এদের একসাথে পেস্ট করে প্রতিদিন ভাতের সাথে খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের একাধিক সমস্যার সমাধান হতে পারে।

প্রথমেই বলতেই হয় কালো জিরার কথা। এতে থাকে থাইমোকুইনোন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান, যা হজমের উন্নতি ঘটায় ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে কালো জিরা অত্যন্ত কার্যকর।

রসুন হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটি রক্ত পরিষ্কার করে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া, রসুন অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

সাদা তিলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আঁশ থাকে। এটি হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের চলাচল সহজ করে তোলে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাদের জন্য সাদা তিল অত্যন্ত উপকারী।

এই তিনটি উপাদান একসাথে পেস্ট করে প্রতিদিন ভাতের সাথে খান। স্বাদে হালকা ঝাঁঝালো হলেও এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। পেট পরিষ্কার থাকা মানেই শরীর ভালো থাকা, আর এই মিশ্রণ সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করে।

এই পেস্ট অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আঁশযুক্ত উপাদান হজম ভালো করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, অম্বল ইত্যাদি থেকে আরাম মেলে।

রসুন রক্ত তরল রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।

সাদা তিল ও কালো জিরাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে। ত্বকের বলিরেখা কমে, চুল পড়া রোধ হয় এবং চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

এই তিন উপাদানই দেহে শক্তি যোগায়, ক্লান্তি দূর করে এবং দেহকে কর্মক্ষম রাখে। যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সাহায্য করে।

এই পেস্ট দেহের কোষগুলিকে পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে, ফলে বয়স বাড়লেও শরীর তরুণ থাকে। নিয়মিত খেলে ত্বকে, শরীরে ও মনেও যৌবনের ছাপ স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

প্রতিদিন সকালে বা দুপুরে ভাতের সাথে ১ চামচ এই পেস্ট খেলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন শরীর কতটা বদলে গেছে – ওষুধ ছাড়াই প্রাণবন্ত যৌবনের থাকবে।