Kangana Ranaut (Photo Credit: Instagram)

Kangana Ranaut: বিজেপির কাছে ক্রমেই অস্বস্তির হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী থেকে সাংসদ হওয়া কঙ্গনা রানওয়াত। হিমাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Himachal Floods) নিয়ে খামোকা বিতর্কত মন্তব্য করে দলকে সমস্য়া ফেলেছেন বলিউডের এক সময়ের কুইন অভিনেত্রী। এমনিতে সবারই জানা, সেলেবরা রাজনীতি এসে জনপ্রতিনিধি হল, ভোট ছাড়া, মাটির সঙ্গে তেমন যোগ রাখেন না। বিপুল সম্পত্তির মালকিন কঙ্গনার ক্ষেত্রেও তেমন আশা ছিল না। কিন্তু কঙ্গনাকে সমস্য়া ফেলছে তাঁর মুখ। হিমাচলের ধস, বন্যা নিয়ে মান্ডির তারকা বিজেপি সাংসদ ঘটনাস্থলে যেতে অনেকটা দেরি করেন। হিমাচলে মান্ডিতে ধস, বন্যায় কমপক্ষে ৭৮ জন মারা যান, ৩১ জন নিখোঁজ। তখন কঙ্গনা দেরিতে দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে গিয়ে বলে বসেন, তিনি কোনও মন্ত্রী নন। তাঁর কাছে দুর্যোগ ত্রানের কোনও অর্থ থাকে না। সাংসদদের কাছ শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকে। কেন্দ্র অর্থ দিলে তবেই আমি ত্রাণ তহবিলে অর্থ দিতে পারব। তাঁর কেন্দ্রের মানুষ সাহায্যের জন্য তাঁর কাছে এলে কঙ্গনা বার দুয়েক বলেন, "আমার কোনও ক্যাবিনেট নেই। আমার দুই ভাই আমার সঙ্গে সব সময় থাকে, ওরাই আমার ক্যাবিনেট, ওরাই আমার মন্ত্রিসভা।"

সাংসদ হিসাবে তেমন উপভোগ করছেন না, জানিয়েছেন কঙ্গনা

এরপর অল ইন্ডি রেডিও-র এক পডকাস্টে ক দিন আগে কঙ্গনা বলেন, তিনি সাংসদ পদে থাকাটা উপভোগ করছেন না, কারণ তাঁর কাছে ভোটাররা ভাঙা রাস্তা বা নর্দমার মতো “পঞ্চায়েত-স্তরের” সমস্যা নিয়ে আসেন, যা তিনি মনে করেন তাঁর দায়িত্বের বাইরে। কঙ্গনা সেই পডকাস্টে সরসারি বলেন, , “আমি এখনও এটার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি। আমি বলব না যে আমি এটা (রাজনীতি) উপভোগ করছি। এটা একেবারে ভিন্ন ধরনের কাজ, অনেকটা সমাজসেবার মতো। এটা আমার পটভূমি ছিল না। আমি কখনোই মানুষের সেবা করার কথা ভাবিনি।” তিনি ভোটারদের প্রত্যাশার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন কথা সাফ বলছেন কঙ্গনা। পর্দার পিছনে দেশের রাজনীতিবিদরা সবাই এক হয়ে যান, এমন কথা বলেও দলকে তেমন স্বস্তি দেননি কঙ্গনা।

কীভাবে বিজেপির গুড বুকে আসেন

প্রসঙ্গত, বছরখানেক হল মান্ডি থেকে লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছেন কঙ্গনা রানওয়াত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উত্থানের পিছনে রয়েছে, যে কোনও ইস্যুতেই নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির প্রশংসা, কংগ্রেসকে তুলোধনা, বলিউডে বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলির সমালোচনা। মাটি থেকে উঠে আসা, স্পষ্টবক্তা, সব ইস্য়ুতে দলকে সমর্থনের বিষয়টা কঙ্গনাকে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে বড় আশা জুগিয়েছিল। তাই কোনও কথা না ভেবে কোনওরকম রাজনৈতিক সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও একেবারে সোজা তাঁকে তাঁর নিজের রাজ্য হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত বছর লোকসভা নির্বাচনে মান্ডিতে কঙ্গনা প্রায় ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান কংগ্রেস নেতা বিক্রমাদিত্য সিং-কে। রাজনীতিতে সরকারিভাবে যোগদানের আগেও বেশ কয়েকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা। কিন্তু সাংসদ হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব বাড়লেও কঙ্গনা আছেন কঙ্গনাতেই।

বলিউডে কঙ্গনা

২০০৭ সালে অনুরাগ বসুর কুইন সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন কঙ্গনা। এরপর বেশ কিছু ভাল চরিত্রে অভিনয় করে, বলিউডে কুইন তকমা আদায় করেন তিনি। কঙ্গনা রানওয়াত পর্দায় আসা মানেই বিশেষ কিছু। কিন্তু কয়েকটা বছর নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর ক্রমশ বলিউডে গুরুত্ব হারাতে থাকেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানওয়াত। একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে কঙ্গনা বলিউডে কোণঠাসা হত শুরু করেন। ২০১৭ সাল থেকে একের পর এক কঙ্গনার সিনেমা বক্স অফিসে মুখথুবড়ে পড়ে। মনিকর্নিকা, থালাইভা, জামেন্টাল হে কেয়া থেকে চন্দ্রমুখী ২, তেজস। সবচেয়ে বড় ফ্লপ সিনেমার তালিকায় নাম লেখাতে থাকেন কঙ্গনা। সিনেমার কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সময়ই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সাংসদ হন।

বেঁফাস, বিতর্কিত কঙ্গনা

২০১৬-১৭ সালে বলিউডের সুপারস্টার হৃতিক রোশনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য বিবাদ, যেখানে তিনি হৃতিককে “সিলি এক্স” বলে সম্বোধন করেন, ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২০১৭ সালে কফি উইথ করণ-এ করণ জোহরকে “নেপোটিজমের পতাকাবাহী” বলে আখ্যা দেন, যা বলিউডে নেপোটিজম বিতর্কের সূচনা করে। ২০২০ সালে উর্মিলা মাতন্ডকরকে “সফট পর্ন স্টার” বলে কটাক্ষ করেন। বলিউড তারকা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর তিনি বলিউডের “মুভি মাফিয়া” ও নেপোটিজমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। কৃষক আন্দোলনকে বাংলাদেশের অরাজকতার সঙ্গে যোগ তুলনা করেন, মুম্বইকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করে মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান। এই মন্তব্যগুলো তাঁকে বিতর্কিত এবং মেরুকরণকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে।