Human Skeleton Found (Photo Credit: X/Screengrab)

হায়দরাবাদ, ১৫ জুলাই: ক্রিকেট খেলার সময় বল খুঁজতে গিয়ে এক ব্যক্তি যা দেখলেন, তা চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। ক্রিকেটের বল খুঁজতে গিয়ে দেখলেন, একটি ঘরের ভিতরে কঙ্কাল (Human Skeleton) পড়ে রয়েছে। তাও আবার মানুষের। পরিত্যক্ত ওই ঘরের পাশ থেকে বল আনতে গিয়ে, সেখানে মানুষের কঙ্কাল চোখে পড়ে হায়দরাবাদের (Hyderabad) এক ব্যক্তি। দক্ষিণের শহর হায়দরাবাদের নামপল্লীতে এমনই একটি ঘটনার জেরে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। যেখানে বল খুঁজতে গিয়ে পরিত্যক্ত ঘরের মেঝেতে বেশ কঙ্কাল শোয়ানো দেখতে পান এক ব্যক্তি।

জানা যায়, নামপল্লীর (Nampally) যে বাড়ির ঘরে ওই মানুষের কঙ্কাল দেখা যায়, সেটি গত ৭ বছর ধরে বন্ধ ছিল। গত ৭ বছর ধরেই কঙ্কালটি সেখানে পড়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ। রিপোর্টে প্রকাশ, পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘরে মানুষের কঙ্কাল দেখা যায়। মেঝতে শোয়ানো অবস্থায় কঙ্কালটির মুখ নীচের দিকে ছিল। সেই সঙ্গে মেঝেতে ছড়ানো, ছিটানো অবস্থায় বেশ কিছু বাসনপত্রও দেখতে পান সেখানকার মানুষজন। যে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, এক ব্যক্তির রেকর্ড করা ভিডিয়োর মাধ্যমে।

খবর পেয়ে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে নামপল্লীর ওই বাড়িতে যায় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। যে কঙ্কালটি ওই পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ফরেন্সিক পরীক্ষার পর হয়ত জানা যাবে, ওই কঙ্কালটি আদতে কার। তারপরই ওই ব্যক্তির ওই পরিণতি কীভাবে হল, সে বিষয়ে পুলিশ খানাতল্লাশি করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় কঙ্কাল...

 

জানা যাচ্ছে, মুনির খান নামে এক ব্যক্তির বাড়ি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নামপল্লীর ওই বাসস্থান। মুনির খানের ১০ সন্তান। তার মধ্যে চতুর্থ সন্তান হিসেবে যিনি ছিলেন, তিনিই নামপল্লীর ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। মুনির খানের চতুর্থ ছেলে ওই বাড়িতে একা থাকতেন এবং তিনি মানসিকভাবে তেমন সুস্থ ছিলেন না বলে খবর মিলছে। গত কয়েক বছর আগে মুনির খানের চতুর্থ সন্তানের মৃত্যু হয়। তাঁর দেহই কি ওই পরিত্যক্ত বাড়ির মেঝেতে কঙ্কাল হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তবে যে ব্যক্তির কঙ্কাল মিলেছে, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। কারণ কঙ্কালের শরীরে কোনও রক্তের দাগ বা আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই গোটা বিষয়টি সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।

তবে ওই ঘটনা আশপাশের লোকজনকে চমকে দিয়েছে। তাঁরা জানান, এই বাড়ি যাঁর, তিনি বর্তমানে বিদেশ থাকেন। ফলে গত ৭ বছর ধরে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।