Landslide In Himachal Pradesh (Photo Credit: X)

সিমলা, ৮ জুলাই:  হিমাচল প্রদেশে (Himachal Pradesh Rain) রুদ্র মূর্তি নিয়েছে বৃষ্টি। মেঘভাঙা বৃষ্টির দেদার প্রকোপে হিমাচল প্রদেশে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। হিমাচল প্রদেশে মেঘভাঙা বৃষ্টির (Cloudburst) জেরে বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ বন্যা শুরু হয়েছে। তার জেরে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন। হিমাচল প্রদেশের যে অঞ্চলগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ, তার মধ্যে রয়েছে মান্ডি। বিজেপির অভিনেত্রী সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের (Mandi MP Kangana Ranaut) এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মেঘভাঙা বৃষ্টি, হঠাৎ বন্যার দাপটে।

হিমাচল প্রদেশের দুর্যোগ নিয়ে মানুষ যখন আতঙ্কগ্রস্থ, সেই সময় ৬৭ জনের প্রাণ বাঁচাল এক সারমেয় (Dog)। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসছে, সেই ইঙ্গিত পেয়ে জোরে জোরে ডাকতে শুরু করে একটি কুকুর। সারমেয়র চিৎকার, চেঁচামেচিতে সেখানকার লোকসজন সতর্ক হয়ে যান। যার জেরে ২০টি পরিবারের ৬৭ জনের প্রাণ রক্ষা পায়। ওই সারমেয়র অতি সতর্কতার জেরে ৬৭ জনের প্রাণ বেঁচে যায় বলে খবর।

আরও পড়ুন: Himachal Pradesh: দুর্যোগ অব্যাহত, ক্রমে ভয়বহ হচ্ছে হিমাচলের পরিস্থিতি, মৃত্যু ৭২ জনের, নিখোঁজ কমপক্ষে ৩১

ঘটনা গত ৩০ জুনের। ওইদিন রাত ১টা নাগাদ মান্ডির ধরমপুরে প্রবল দুর্যোগ নেমে আসে। ধরমপুরের সিয়াতি গ্রামকে ১ জুলাই মাটির নীচে থেকে উদ্ধার করা হয়। সিয়াতি গ্রামে দুর্যোগ নেমে আসার আগে প্রবল জোরে ডাকতে শুরু করে একটি কুকুর। তাতে সিয়াতির  ২০ টি পরিবারের ৬৭ জনের প্রাণ রক্ষা পায় বলে জানা যায়।

সিয়াতির বাসিন্দা নরেন্দ্র জানান, তাঁদের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় কুকুরটি ছিল। হঠাৎ করে সে প্রবল ডাকাডাকি শুরু করে। পোষ্যর ডাকে তিনি সেখানে গেলে দেখতে পান, প্রবল বৃষ্টিতে তাঁদের বাড়ির একটি অংশ ফেটে গিয়েছে। আর সেখান থেকে হু হু করে জল প্রবেশ করছে। এরপর নরেন্দ্র চিৎকার, চেঁচামেচি করে গোটা গ্রামের মানুষকে জাগিয়ে তোলেন। কোনওক্রমে তাঁরা সবকিছু ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। যার জেরে সিয়াতি গ্রামের ২০টি পরিবারের প্রাণ রক্ষা পায়। বেঁচে যান ৬৭ জন মানুষ।

নরেন্দ্ররা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই ধসের (Landslide) জেরে গোটা সিয়াতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরদিন ওই গ্রামের মাত্র ৪টি বাড়ির কিছু অংশ দেখা যায়। বাদবাকি সব মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান নরেন্দ্র।

সিয়াতি গ্রামের প্রত্যেকে নয়না দেবীর মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আপাতত সেখানেই তাঁদের দিন কাটছে বলে জানান নরেন্দ্র। তবে যেভাবে ধস নেমে আসে, তা প্রত্যক্ষ করে ওই গ্রামের বেশ কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ ব্লাড প্রেসারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। কেউ বা আবার অন্য শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন বলে খবর।