দিল্লি, ২০ নভেম্বর: দিল্লি থেকে এবার একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা সামনে এল। দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল এক পড়ুয়া। দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে রেখে যায় ওই পড়ুয়া। মা-বাবার উদ্দেশে নোট লিখে রেখে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লির এক প্রথম শ্রেণির বেসরকারি স্কুলের ছাত্র। ওই পড়ুয়া যে সুইসাইড নোট লিখে রেখে যায়, সেখানে জানায়, 'সরি মা, বাবা। কতবার আর তোমাদের মন ভাঙব। এবার শেষ। আর তোমাদের মন ভাঙব না। স্কুলের শিক্ষকরা তো এমনই। আমি আর কী বলতে পারি।'
দশম শ্রেণির ওই ছাত্রের সুইসাইড নোট উদ্ধার হতেই তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই পড়ুয়ার বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের ৩ শিক্ষক এবং প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে দায়ের করেন অভিযোগ।
মৃতের বাবা জানান, প্রত্যেকদিনের মত মঙ্গলবারও তাঁদের ছেলে সকাল ৭.১৫ নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুলে যায়। এরপর দুপুর ২.৪৫ মিনিট নাগাদ ওই পড়ুয়ার বাবার কাছে একটি ফোন আসে। যেখানে জানানো হয়, তাঁর ছেলে মধ্য দিল্লির রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনে আহত। যা শুনে ওই ব্যক্তিকে পড়ুয়ার বাবা অনুরোধ জানান, তাঁর ছেলেকে বি এল কাপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর তাঁরা তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছে যান। তবে বাবা, মায়ের পৌঁছনোর আগেই ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে।
জানা যায়, স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং ৩ শিক্ষক একযোগে ওই পড়ুয়াকে হেনস্থা করেন। যা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ওই পড়ুয়া আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
মৃত পড়ুয়ার এক বন্ধুর কথায়, গত ৪ দিন ধরে দিল্লির ওই নামি স্কুলের এক শিক্ষক দশম শ্রেণির ছাত্রকে হুমকি দিচ্ছিলেন। তাঁকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে বারংবার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তাঁর ছেলেকে ওই শিক্ষক একবার ধাক্কাও মারেন বলে মৃতের বাবার অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে, তাকে অভিযুক্ত এক শিক্ষক ব্যাঙ্গ করেন। আর এই সবকিছু হয় খোদ প্রিন্সিপালের সামনে। তিনি সব দেখেও না জানার ভান করে থাকেন বলে অভিযোগ।
দিল্লির নামি স্কুলের পড়ুয়ার সঙ্গে এহেন ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা হু হু করে যেমন ভাইরাল হয়ে যায়, তেমনি বহু মানুষ ওই ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন।