হায়দরাবাদ, ১৮ অগাস্ট: নাম ব্রেন ইটিং অ্যামিবা (Brain Eating Amoeba)। যা মস্তিষ্কের ভিতরে ঢুকে মাথার মধ্যের সবকিছু কুরে কুরে খেয়ে নেয়। শুনেই ভয় লাগছে তো! তাহলে জানুন, কেরলের (Kerala) কোঝিকোড়ে ব্রেন ইটিং অ্যামিবার হামলায় ৩ জন আক্রান্ত। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। যার বয়স মাত্র ৮। অন্যদিকে আরও ২ জন এই মস্তিষ্ক কুরে খাওয়া পোকার হামলার আক্রান্ত। যাদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। যার বয়স মাত্র ৯ মাস।
গরম পরিবেশ হোক কিংবা পরিষ্কার জল অথবা মাটি। এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবা নাক, মুখ দিয়ে সরাসরি মস্কিষ্কে প্রবেশ করে। তারপর সবকিছু কুরে কুরে খেয়ে নেয়। চলতি বছর কেরলে ৮ জন এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবায় আক্রান্ত হন বলে খবর মেলে। যার মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয় খুব শিগগিরই।
সম্প্রতি গত ১৪ অগাস্ট এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবার কামড়ে আরও একজনের মৃত্যু খবর মেলে। যা নিয়ে এই মুহূর্তে ব্রেন ইটিং অ্যামিবার কামড়ে ২ জনের প্রাণ গিয়েছে বলে খবর।
কেরলের স্বাস্থ্য দফতরের কথায়, যাঁরা এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও সাধারণ উপসর্গ নেই। তাঁদের প্রত্যেকে এক একটি উপসর্গে আক্রান্ত বলে জানা যায়। তবে ধুলো এবং মাটি থেকেই এই প্রাণঘাতী রোগ ছড়াচ্ছে বলে বলে কেরলের স্বাস্থ্য দফতরের অনুমান।
যদিও এই অ্যামিবা নদী, পুকুর বা হ্রদের মিষ্টি জলেও থাকে বলে বলে জানা যাচ্ছে। নাক দিয়ে প্রবেশ করে সোজা এই অ্যামিবা মস্তিষ্কে হানা দেয়। তারপর মস্তিষ্কের টিস্যুগুলি এরা কুরে কুরে খায় বলে খবর।
কেরলে পরপর সংক্রমণ
বর্তমানে এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবা কেরলের ভয় ধরালেও, ২০২৪ সালেও এর প্রকোপ দেখা যায় দক্ষিণের এই রাজ্যে। গত বছর ২৪ জন এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবায় আক্রান্ত হন। যাঁদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয় বলে খবর।
কোঝিকোড়ের পাশাপাশি কেরলের তিরুবনন্তপুরমেও এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবার আধিপত্য দেখা যায়।
ব্রেন ইটিং অ্যামিবায় আক্রান্ত হলে যে উপসর্গগুলি দেখা দেয়
ব্রেন ইটিং অ্যামিবায় আক্রান্ত হলে বমি বমি ভাব হবে
মাথার যন্ত্রণা হবে
যে এই রোগে আক্রান্ত হলে, তাঁর ঘাড় শক্ত হয়ে যাবে
শরীরে খিঁচুনি দেখা দেবে
শরীর টমল করবে। শরীরের উপর মানুষ নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন
কেউ কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে কোমায়ও চলে যান
ব্রেন ইটিং অ্যামিবা থেকে বাঁচতে কী করবেন
ব্রেন ইটিং অ্যামিবা থেকে বাঁচতে দূষিত জলে নামবেন না
সুইমিং পুলে যেতে হলে সাবধান
নাক পরিষ্কারের সময় সতর্ক থাকুন
কোনও ধরনের দূষিত জল যাতে নাকে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন