রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে এই বিপর্যয় ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করলেও প্রবল স্রোত এবং পানির গভীরতার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটের ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন দিয়ে ওঠার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এসময় বাসটি পন্টুনের রেলিং ভেঙে সরাসরি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের সাথে যোগ দেয়। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসটি নদীর বেশ গভীরে তলিয়ে যাওয়ায় সেটি শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। একটি শক্তিশালী ক্রেনের সাহায্যে বাসটি পানি থেকে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের বিশেষ দলও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে নদীর ভাটি এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা চালকের অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বৃষ্টির কারণে পন্টুন পিচ্ছিল থাকা এবং বাসের অতিরিক্ত গতিকেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ জানিয়েছে, বাসের চালক ও হেলপার নিখোঁজ নাকি পালিয়ে গেছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে।
সড়ক নিরাপত্তা ও জনমনে উদ্বেগ
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপারের সময় বাসের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে পন্টুনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশের সড়ক ও নৌপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এল। স্থানীয় বাসিন্দারা ফেরিঘাট এলাকায় কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।