দিল্লি, ১০ নভেম্বর: জম্মু কাশ্মীর পুলিশ এবং গোয়েন্দা দফতরের যৌথ তল্লাশিতে দিল্লির একবারে কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল বিস্ফোরক। হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একসঙ্গে ৪০০ কেজি আরডিএক্স। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে এ কে ৪৭-সহ নানাবিধ অস্ত্র। ফরিদাবাদের ধাউঞ্জ গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স উদ্ধার করেছে জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে মুজ়াম্মিল সাকিল নামে এক এক চিকিৎসককে। আুপাতত মুজ়াম্মিল সাকিলের জেরা চলছে।
কে এই মুজ়াম্মিল সাকিল?
জম্মু কাশ্মীরের একজন চিকিৎসক হিসেবে খ্যাত মুজ়াম্মিল সাকিল। ওই মুজ়াম্মিল সাকিলের তত্ত্বাবধানেই ৪০০ কেজি আরডিএক্স ধাউঞ্জ গ্রামে এনে লুকিয়ে রাখা হয় বলে সন্দেহ পুলিশের। যে বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স উদ্ধরা করা হয়েছে, তা অ্যামোনিয়ম নাইট্রেট বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধাউঞ্জের আল ফালাহ হাসপাতালে কর্মরত ছিল জম্মু কাশ্মীরের এই এমবিবিএস চিকিৎসক।
দিল্লি থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে এই ফরিদাবাদের ধাউঞ্জ গ্রাম। সেখানেই আল ফালাহ চালাত এই মুজ়াম্মিল সাকিল।
মুজ়াম্মিল সাকিলের গ্রেফতারির পর তাকে প্রাথমিক জেরা সম্পন্ন করেছে পুলিশ। আর তাতেই উঠে এসেছে সব ভয়ঙ্কর তথ্য। পুলিশ এবং আইবি সূত্রে খবর, মুজ়াম্মিল সাকিল গত ৩ মাস আগে ধাউঞ্জ গ্রামে ঘর ভাড়া নেয়। ধাউঞ্জে ঘর ভাড়া নিয়ে দিল্লিতে নাশকতার চেষ্টা মুজ়াম্মিল করতে পারে বলে আশঙ্কা। সেই সঙ্গে মুজ়াম্মিল সীমান্ত সন্ত্রাসের নানা কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত বলেই মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, মুজ়াম্মিলের আস্তানা থেকে বিস্ফোরকের পাশাপাশি একাধিক ইস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০টি টাইমার, ব্যাটারি, ৮৩ রাউন্ড গুলি, কালাসনিকভের মত একাধিক অস্ত্র। ফলে বিপুল বিস্ফোরক এবং অস্ত্র কাজে লাগিয়ে মুজ়াম্মিলরা বড় কোনও পরিকল্পনা করছিল বলেই অনুমান পুলিশের।
মুজ়াম্মিলকে এক মহিলার সঙ্গে গাড়ির ভিতর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। মুজ়াম্মিলের সঙ্গিনীকে ধরা হলেও, তার বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ পুলিশ করেনি বলে খবর। ওই মহিলাও পেশায় চিকিৎসক বলেই জানা যাচ্ছে।