অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনে নজির গড়ল কলকাতা, মেমারির যুবকের লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র পেল নতুন প্রাণ
প্রতীকী ছবি(Photo Credit: Pixabay)

কলকাতা, ১৬ জুলাই: শহরে ফের অঙ্গদান ও সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটল। বর্ধমানের মেমারির যুবক চিন্ময় ঘোষের (Chinmay Ghosh) ব্রেনডেথে (Brain Death), তাঁর অঙ্গদান (Organ Donation) করলেন পরিবারের সদস্যরা। আর এই দানে পুনরায় সুস্থ জীবনের পথে বেশ কয়েকজন রোগী। চিন্ময়ের লিভার পেলেন বনগাঁর গোপালনগরের বাসিন্দা বিধান অধিকারী। গত দেড় বছর ধরে তিনি লিভার অফ সিরোসিসে ভুগছিলেন। এদিন এসএসকেএমে ডাক্তার অভিজিৎ চৌধুরির তত্ত্বাবধানে এই প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে চিন্ময়ের হৃদপিণ্ড চলে গিয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই ভর্তি রয়েছেন খানাকুলের বছর পঁচিশের যুবক সুরজিৎ পাত্র। তাঁর হৃদয়েই ঠাঁই পেতে চলেছে চিন্ময়ের হৃদযন্ত্র। আরও পড়ুন-তীব্র দাবদাহের মধ্যেই বৃষ্টি এল কলকাতায়, খরতাপে পুড়ল বাকি দক্ষিণবঙ্গ

সুরজিৎবাবুর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় নেই। হার্টের জন্য স্বাস্থ্য ভবনে নাম লিখিয়ে রেখেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে মিলেছে হার্ট, চলছে অস্ত্রোপচার।চিন্ময়ের একটি কিডনিও আনা হয়েছে এসএসকেএমে। মোমিনপুরের বাসিন্দা, ১৯ বছরের রমা কুমারী ধানু কিডনির সম্যায় ভুগছেন।চিন্ময়ের একটি কিডনি প্রতিস্থাপিত হবে ওই তরুণীর শরীরে। অন্য কিডনি চলে যাবে অ্যাপলো হাসপাতালে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পার্ক ক্লিনিক থেকে একে একে রওনা দেবে চোখ এবং ত্বকও। এছাড়াও তাঁর চোখের কর্নিয়া পাচ্ছে দিশা আই হাসপাতাল। ত্বক-ও রাখা থাকবে এসএসকেএমের স্কিন ব্যাংকে।

ফিরে আসি দাতা চিন্ময় ঘোষের প্রসঙ্গে। মেমারির এই যুবকের বয়স ৩৫ বছর। তিনি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন। গত বুধবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তাঁর স্কুটি গিয়ে ধাক্কা মারে একটি ট্রাকে। গুরুতর জখম হন চিন্ময়বাবু।তড়িঘড়ি তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। যদিও ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তাররা বুঝতে পারেন চিন্ময়বাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। এরপর কলকাতার পার্ক ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে। সেখানেই সোমবার দুপুরে রোগীর ব্রেনডেথ ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। সঙ্গে সঙ্গেই পরিজনদের অঙ্গদানের কাজে রাজি করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। সোমবার রাতেই শুরু হয় অঙ্গসংরক্ষণের কাজ। এরপর মঙ্গলবার একে একে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে এসএসকেএম, মেডিক্যাল কলেজ ও অ্যাপোলো হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়ে যায় চিন্ময়বাবুর অঙ্গ সমূহ।