Siddharth as Cricketer Arjun (Photo Credit: Test Trailer/ YouTube)

Test Netflix Movie Review: নেটফ্লিক্সের (Netflix) নতুন তামিল সিনেমা 'টেস্ট' (Test) তিনটি আলাদা জীবনের গল্প বলেছে। যেখানে প্রতিটি চরিত্রই নিজ নিজভাবে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। পরিচালক এস. শশিকান্তের (S. Sashikanth) এই সিনেমাটি ক্রিকেটের মাঠ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতায় ঢুকেছেন। এস. শশিকান্তের প্রথম সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন আর. মাধবন (R. Madhavan), নয়নতারা (Nayanthara), সিদ্ধার্থ (Siddharth) ও মীরা জেসমিন (Meera Jasmine)। এক ক্রিকেটার এবং বিজ্ঞানীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিগত সংকটের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ‘টেস্ট’ সিনেমাটি তিনটি প্রধান চরিত্রের জীবনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। অর্জুন (সিদ্ধার্থ) একজন ক্রিকেটার, যার কেরিয়ার ও পারিবারিক জীবন ধ্বংসের মুখে। সারাভানন (মাধবন) একজন MIT-পড়ুয়া বিজ্ঞানী, যিনি তার হাইড্রো-ফুয়েল প্রজেক্টের জন্য তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছেন। কুমুধা (নয়নতারা) একজন স্কুলশিক্ষিকা, যিনি সন্তানধারণের জন্য ব্যাকুল, কিন্তু তার স্বামীর অবহেলায় হতাশ। এই তিনজনের জীবন এক ম্যাচ-ফিক্সিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, যেখানে নৈতিকতার পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত লড়াই থ্রিলারের মোড় নেয়। Where to Watch WWE in India: টিভিতে বন্ধ WWE, এবার থেকে ভারতে রেসলিং দেখুন শুধুমাত্র নেটফ্লিক্সে

তামিল ছাড়াও হিন্দি ভাষায় দেখুন টেস্ট নেটফ্লিক্সে!

টেস্ট সিনেমার গল্পের বিস্তারিত বিবরণ

অর্জুনের (সিদ্ধার্থ) সংকট: অর্জুন একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারত বনাম পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচের আগে তার পারফরম্যান্স নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনও ভেঙে পড়ছে। স্ত্রী পদ্মা (মীরা জেসমিন) এবং ছেলে আদির সঙ্গে তার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে।

সারাভাননের (আর. মাধবন) সংগ্রাম: সারাভানন একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, যিনি বস্টনের MIT থেকে পড়াশোনা করে তামিলনাড়ুর জন্য হাইড্রো-ফুয়েল প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু অর্থের অভাবে তার স্বপ্ন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই চাপ তার বিবাহিত জীবনেও প্রভাব ফেলেছে।

কুমুধার (নয়নতারা) হতাশা: কুমুধা একজন স্কুলশিক্ষিকা, যিনি সন্তান নিতে চান। কিন্তু তার স্বামী সারাভাননের অবহেলা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা তাকে গভীর হতাশায় ফেলে দেয়। বিরক্ত হয়ে এবং রাগে কুমুধা সবসময় তার স্কুলের সফল বন্ধু অর্জুনের সঙ্গে নিজের স্বামীর তুলনা করেন সবসময়।

গল্পের মোড়: এই তিনজনের জীবন এক অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে যায় যখন একটি ম্যাচ-ফিক্সিং সিন্ডিকেট থেকে তাদের ফোন আসে। কে সত্যি বলছে? কে প্রতারণা করছে? নৈতিকতার এই টেস্টে কে পাস করবে আর কে ফেল করবে - সিনেমার শেষ পর্যন্ত সেই উত্তরের সন্ধান মেলে।

কেমন হয়েছে টেস্ট?

অভিনয়: নয়নতারা তার চরিত্রে অসাধারণ, বিশেষ করে একজন হতাশ স্ত্রী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী মায়ের ভূমিকায়। মাধবন ও সিদ্ধার্থও তাদের চরিত্রে ভালো, তবে কিছু সমালোচক মনে করেন তাদের চরিত্র লেখায় গভীরতার অভাব ছিল।

সিনেমাটোগ্রাফি: ক্রিকেটের দৃশ্যগুলো বেশ বাস্তব, সিনেমার স্ক্রিনে সেটা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন cinematographer বিরাজ সিং গোহিল।

সিনেমার লেন্থ: ১৪৫ মিনিটের এই সিনেমাটি সেকেন্ড হাফে বড্ড স্লো এবং ক্লাইম্যাক্স বেশী টেনে দেওয়া হয়েছে।

গল্পের মোড়ের পরিবর্তন: সাইকোলজিক্যাল ড্রামা থেকে হঠাৎ থ্রিলারে রূপান্তর দর্শকদের কিছুটা বিভ্রান্ত করতে পারে।

ক্রিটিকদের কমেন্ট:  সিনেমাটি নিয়ে দর্শকরা অনেকদিন ধ্রেই অধীর অপেক্ষায় ছিল তবে গল্পের কিছু অসঙ্গতি ও দুর্বল স্ক্রিপ্টিংয়ের কারণে এখানে সেরাভাবে গল্প ফুটিয়ে ওঠা যায়নি। তবুও, নয়নতারার অভিনয় ও টেকনিক্যাল দিকগুলো এই সিনেমার সত্যিই নজরকাড়া।

রেটিং: গুগল বলছে সিনেমার রেটিং ৫-এ ২.৫ থেকে ৩।