মন্দির শহর অম্বিকা কালনা মানেই বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের খনি

মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ভাস্কর্য শিল্পের বহুবিধ নিদর্শন নিয়ে ভাগীরথীর তীরে আজও মাথা উঁচিয়ে আছে অম্বিকা কালনা। এখানে একই সঙ্গে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ এবং জৈন সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অবশ্য অধিকাংশ মসজিদই তৈরি হয়েছিল হিন্দু দেবালয়ের ভগ্নাবশেষ দিয়ে। আবার অনেকের বিশ্বাস, অম্বিকা দেবীর মন্দির আদিতে জৈন মন্দির ও এখানে জৈন দেবতা ছিলেন।

মন্দির শহর অম্বিকা কালনা মানেই বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের খনি
দেবী অম্বিকার মন্দির

ছুটিতে ছোটাছুটি করবেন না তো কবে করবেন, তবে সেই ছোটাছুটি যদি হয় বেড়াতে যাওয়ার তাহলে তো সোনায় সোহাগা। সপ্তাহান্তে ছুটি মিলতেই ঝোলা কাঁধে বেরিয়ে পড়ুন দেখি মন এমনিই ভাল হয়ে যাবে। আমাদের বাংলায় দর্শনীয় স্থানের শেষ নেই শুধু খুঁজেপেতে যাওয়ার উদ্যোগ করতে হবে এই যা। করে ফেললেই হল, তারপর শুধু হারিয়ে যাওয়ার পালা। আজ রইল টইটইয়ের পর্ব ১৭।

অম্বিকা কালনা(Ambika Kalna)

মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ভাস্কর্য শিল্পের বহুবিধ নিদর্শন নিয়ে ভাগীরথীর তীরে(River Bhagirathi ) আজও মাথা উঁচিয়ে আছে অম্বিকা কালনা। দেবী অম্বিকার(Goddess Ambika)  মন্দির ও লাগোয়া রাসমঞ্চ যে কত ইতিহাসের সাক্ষী তা এখানে এলেই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যায়। পূর্ববর্ধমানের এই জায়গার নামও অম্বিকা কালনা। এখানে একই সঙ্গে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ এবং জৈন সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অবশ্য অধিকাংশ মসজিদই তৈরি হয়েছিল হিন্দু দেবালয়ের ভগ্নাবশেষ দিয়ে। আবার অনেকের বিশ্বাস, অম্বিকা দেবীর মন্দির আদিতে জৈন মন্দির ও এখানে জৈন দেবতা ছিলেন। কালনার ইসলামী যুগের নিদর্শনগুলি তুর্কি আফগান রাজত্বকালের। এই সময় ইসলাম সংস্কৃতির প্রসিদ্ধ কেন্দ্র হয়ে ওঠে কালনা। ৫০০ বছর আগে তৈরি ফিরোজ শাহের মসজিদ(Firoz Shah)। শিলালেখ অনুযায়ী, ১৫৩৩ সালে ফিরোজ শাহের আমলে তৈরি। মসজিদের মাথার গম্বুজ ও মিনারগুলি এখন ভেঙে পড়েছে। নসরৎ শাহের মসজিদ এবং মজলিশ সাহেবের মসজিদের খিলান স্থাপত্যশিল্পের উৎকর্ষ প্রমাণ করে মুসলিম সংস্কৃতির কথা। একই সময় কালনা বৈষ্ণব সংস্কৃতিরও প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে শ্রীচৈতন্য ও নিত্যানন্দের প্রভাবে। বর্ধমান রাজবংশের আরও বহু কীর্তি আছে কালনায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য লালজির মন্দির ও তার কারুকার্য, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির ও জলেশ্বর মন্দির। লালজির মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ। লালজি মন্দিরের টেরাকোটার কাজ প্রাচীন স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন। পঁচিশ চূড়া বিশিষ্ট শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র মন্দিরের টেরাকোটার কাজও অপূর্ব।

কলকাতা থেকে অম্বিকা কালনা ঘুরে দেখতে রাত্রিবাসের কোনও প্রয়োজন হয় না। নিজেদের গাড়িতে বা ট্রেনে গেলে স্থানীয় রিক্সা ভাড়া করে সমস্ত দ্রষ্টব্যস্থান ভালো ভাবে দেখে অনায়াসে সন্ধ্যার মধ্যে কলকাতা ফেরা যায। তবুও থাকতে চাইলে পুরসভার টুরিস্ট লজ আছে।কলকাতা থেকে লোকাল ট্রেনে অম্বিকা-কালনা পৌঁছনো যায়। সব থেকে ভালো হাওড়া বা শিয়ালদহ কাটোয়া লোকাল। সড়কপথে কলকাতা থেকে জি টি রোড/ দিল্লি রোড ধরে ব্যান্ডেল পৌঁছে সেখান থেকে আসাম-লিঙ্ক রোড ধরে কালনা প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ।

 

(The above story first appeared on LatestLY on May 13, 2019 08:41 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).