Covid-19 in Children: কোভিড-19 অতিমারি- শিশুদের ওপর প্রভাব এবং তার প্রতিকার
করোনা

নতুন দিল্লী, ৫ই জুন ২০২১:  কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) এবং ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স কমিউনিকেশন এন্ড নতুন দিল্লীর পলিসি রিসার্চের ( এনআইএসসিপিআর) যৌথ উদ্যোগে গতকাল শিশুদের ওপর কোভিড-19 এর প্রভাব বিষয়ে অনলাইনে একটি অর্ধ দিবসের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে সাম্প্রতিক কোভিড-19 এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিশুদের ওপর তার প্রভাব এবং তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা হয়। এই ওয়েবিনারের মুখ্য অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নতুন দিল্লীর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন(এইচ কিউ),অতিরিক্ত কমিশানার(একাডেমিক) ড: ভি ভিজয়ালক্ষী। অতিথি বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের শ্রী বালাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু চিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক এবং আইএপির বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড: আর সোমাশেখর।এই অনুষ্ঠানে অনান্য ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ,গবেষক,বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সহ ১৫০ জন প্রতিনিধি ফেসবুকের মাধ্যমে যোগদান করেন।

সিএসআইআর-এনআইএসসিপিআরের নির্দেশক ড: রঞ্জনা আগরওয়াল তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে,সিএসআইআর এবং কেভিএসের মতন দুটি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দৃঢ় বন্ধনের কথা তুলে ধরেন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি ছাত্রছাত্রী এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলোচনার লক্ষ্যে জিজ্ঞাসা নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী হয়।ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান মনস্কতা এবং সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কে ভি এসের অতিরিক্ত কমিশনার ড: ভি ভিজয়ালক্ষী তাঁর ভাষণে বলেন,'জিজ্ঞাসা' প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা বিজ্ঞানীদের সরাসরি কথা বলতে পারায়,তাদের স্বপ্ন সফল হয়েছে এবং তারা বৈজ্ঞানিকদের কাজ সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারে। তিনি বলেন কোভিড-19 এর অপ্রত্যাশিত আক্রমণ আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষত প্রভাব ফেলেছে সামাজিক ক্ষেত্রে। পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছে শিশুদের মানসিকতার। তাদের খেলার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। শিক্ষক শিক্ষিকারা রাতারাতি তথ্যপ্রযুক্তিতে পারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে শিশুদের পঠনপাঠনের চাপ কমাতে সাহায্য করে চলেছেন।

বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক অধ্যাপক ড: আর সোমাশেখর তাঁর ভাষণে "কোভিড-19 শিশুদের ওপর প্রভাব এবং তার প্রতিকার" বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন যদিও শিশুরা সার্স-কভ-2 সংক্রমণের প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত তবুও যেটুকু প্রভাব পড়ছে তা উপসর্গহীন। মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ সংক্রমিত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। অভিভাবকদের থেকে তারা যাতে সংক্রমিত না হয় সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। করোনা সংক্রমণ এবং সাধারণ ঠান্ডা লাগার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরার পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে কিছু পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন ব্যায়াম করা,খেলার সুযোগ করে দেওয়া,মশালাদার এবং অপুষ্টিকর খাবার বর্জন করা,সুষম খাবার খাওয়া,নির্দিষ্ট সময়ে নিদ্রা যাওয়া,মাস্ক পরা ইত্যাদি। শিশুর আচরণে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিএসআইআর-এনআইএসসিপিআরের সিনিয়র প্রিন্সিপাল বিজ্ঞানী ড:ওয়াই মাধবী।

অনুষ্ঠানটি সফল করতে বিশেষ ভুমিকা নেন সংস্থার দুই বিজ্ঞানী শ্রী আর এস জয়াসমু এবং ড:এন কে প্রসন্ন সহ সমস্ত কর্মীবৃন্দ।