Representational Image (Photo Credit: File Photo)

দিল্লি, ৭ মার্চ: স্ত্রীর (Wife) বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এল। যেখানে আবার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে আত্মহত্যা করেন নিশান্ত ত্রিপাঠী নামে এক ব্যক্তি। রিপোর্টে প্রকাশ, গত শুক্রবার মুম্বইয়ের (Mumbai)  সাহারা হোটেলে নিশান্ত ত্রিপাঠী নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। নিজের জীবন শেষ করার আগে নিশান্ত তাঁর স্ত্রী এবং মাসি শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন। স্ত্রী এবং মাসি শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নিশান্ত তাঁর নিজের কোম্পানির ওয়েবসাইটে পোস্ট করেন। তারপরই তিনি আত্মহত্যা (Suicide) করেন বলে খবর।

জানা যাচ্ছে, নারী অধিকার রক্ষা কর্মীর ছেলে নিশান্ত গত ৩ দিন আগে মুম্বইয়ের ওই হোটেলে চেক ইন করেন। হোটালে চেক ইনের পর 'ডু নট ডিস্টার্বড' সাইন লাগিয়ে দেন নিজের ঘরের বাইরে। ফলে হোটেল কর্মীরা সেভাবে তাঁর খোঁজ করেননি ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক না গলাতে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে নিশান্তের ঘর থেকে কোনও ধনের সাড়াশব্দ না পেয়ে, কর্মীরা মাস্টার চাবি ব্যবহার করে ঘর খোলেন। ঘর খুলতেই নিশান্তের মৃতদেহ তাঁরা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের তরফে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ নিশান্তের অভিযোগ দেখে তাঁর স্ত্রী  অপূর্বা পারেখ এবং শাশুড়ি প্রার্থনা মিশ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। নিশান্তের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই মৃতের স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ওই ঘটনায় কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি বলে খবর।

নিশান্তের শেষ চিঠিতে তাঁর স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার উল্লেখ দেখা যায়। অপূর্বাকে তিনি আগেও ভালবাসতেন এখনও ভালবাসেন। তাঁর ভালবাসায় কোনও খাঁদ নেই। তবে তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তার জন্য প্রার্থনা মাসি দায়ি। তাই নিশান্তের মৃত্যুর পর অপূর্বা যাতে তাঁর প্রার্থনা মাসির কাছে না যান, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন নিশান্ত। পাশাপাশি নিশান্তের মৃত্যুর পর তাঁর মায়ের কাছে যাতে অপূর্বা না যান, সেই আবেদনও মৃত্যুর আগে করেন। তাঁর মাকে যাতে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়, সেই প্রার্থনা নিশান্ত নিজের শেষ নোটে লিখে যান।

সম্প্রতি মানব শর্মা নামে টিসিএসের এক ম্যানেজার আত্মহত্যা করেন। তিনিও তাঁর স্ত্রী নিকিতা শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন আত্মহত্যার আগে শ্যুট করা ভিডিয়োতে। যদিও নিকাতার পালটা দাবি, মানব এর আগেও কয়েকবাক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রত্যেকবার তিনি তাঁর স্বামীকে রক্ষা করেন। তবে এবার হঠৎ করেই মানব এই কাজ করেন বলে জানান নিকিতা। পাশাপাশি মানব মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে মারধর করতেন বলেও নিকিতা অভিযোগ করেন।

বেঙ্গালুরুতে কর্মরত অতুল সুভাষও সম্প্রতি আত্মহত্যা করেন তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। যার জেরে অতুল সুভাষের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলছে।