চেন্নাই, ১৭ জুলাইঃ জনপ্রিয় মডেল তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার স্যান রেচলের মৃত্যু (San Rechal Suicide) ঘিরে রহস্যের দানা বেঁধেছে। রবিবার, ১৩ জুলাই পুদুচেরিতে (Puducherry) ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী মডেলের মৃত্যু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, প্রচুর পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজের জীবন শেষ করেছেন স্যান (San Rechal)। তাঁকে প্রথমে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেষে স্যানকে জওহরলাল ইনস্টিটিউট অফ পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (JIPMER) এ স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরুণী। তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে।
গত বছরেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন স্যান (San Rechal)। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হতে না হতেই কেন আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন মডেল? সেই রহস্যভেদেরই চেষ্টা করছে পুলিশ।
স্যান রেচল কে?
খুব অল্প বয়সেই মডেলিংয়ের জগতে প্রবেশ করেন স্যান (San Rechal)। অল্প দিনের কেরিয়ারে বহু পুরস্কার এসেছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৯ সালে 'মিস বেস্ট অ্যাটিটিউড'এর টাইটেল জেতেন তিনি। সেই বছরই 'মিস ডার্ক কুইন তামিলনাড়ু' হন তিনি। ২০২২ সালে 'কুইন অফ মাদ্রাজ' খেতাব পান। ওই বছর 'মিস পুদুচেরি' খেতাবও পান তিনি।
স্বামী এবং পোষ্যের সঙ্গে স্যান
View this post on Instagram
বিনোদনের জগতে বর্ণবৈষম্য নিয়ে সোচ্চার ছিলেন স্যান। ভারতীয় মডেলিং জগত এবং সিনেমার পর্দায় বরাবরই ফর্সা তন্বীদের দাপট। সেখানে নিজের শ্যামবর্ণ ত্বককেই স্যান নিজের আত্মবিশ্বাস করে তোলেন। অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মডেলিং জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। গায়ের রং কালো এমন মানুষদের বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি হওয়া বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন স্যান। ২০২৩ সালে মিস আফ্রিকা গোল্ডেন প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। সব কিছুই ঠিক চলছিল কিন্তু কী এমন ঘটল যার জন্যে আত্মঘাতী হতে হল স্যান রেচলকে (San Rechal)?
মানসিক চাপ থেকেই কি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত?
জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন স্যান (San Rechal)। তিনি নিজের বাবার কাছে অর্থ সাহায্যও চান। কিন্তু বাবা মুখ ফিরিয়ে নেন। এরপর নিজের গয়না বিক্রি করেন স্যান। আর্থিক চাপই কি তবে আত্মহত্যার কারণ? নাকি তাঁর বৈবাহিক জীবনে কোন সমস্যা ছিল? যদিও সুইসাইড নোটে নিজের আত্মহত্যার জন্যে কাউকেই দায়ী করেননি তিনি।