Shah Rukh Khan Awards: সাফল্যের সব বৃত্ত পূর্ণ করে ফেললেন বলিউডের মহাতারকা শাহরুখ খানের। বলিউডের মহাসাফল্যের এভারেস্ট গড়া শাহরুখ খান (SRK) তাঁর তিন দশকের বেশি অভিনয় কেরিয়ারে বহু পুরস্কার জিতেছেন। রেকর্ড ১৫টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন শাহরুখ। কিন্তু তাঁর ভক্তদের একটা আক্ষেপ ছিল, এত কিছু পেলেও তিনি কখনও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (National Awards) জেতেননি। অ্যাটলি পরিচালিত জওয়ান সিনেমার সৌজন্যে এবার সেটাও পেয়ে গেলেন শাহরুখ খান। ৩৩ বছরের কেরিয়ারে অবশেষে জাতীয় পুরস্কার পেলেন কিং খান। ১৯৯২ সালে দিওয়ানা সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে বড় পর্দায় পা রাখেন শাহরুখ। তার আগে শাহরুখ খানকে প্রথম পর্দায় দেখা যায় ১৯৮8 সালে, দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'ফৌজি'-তে।এরপর তিনি 'সার্কাস', 'উম্মিদ, 'বিত্তি' ইত্যাদি কয়েকটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। এই এত দীর্ঘ অভিনয় কেরিয়ারে অবশেষে পেলেন জাতীয় পুরস্কার।
২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ এক জায়গায় বলেছিলেন, তাঁর ৯ তলা অফিসের একটি রুম ‘পুরস্কারের ঘর’—যেখানে ৩০০টিরও বেশি অ্যাওয়ার্ড সাজিয়ে রাখা আছে। এবার সেখানে জায়গা পাচ্ছে অধরা 'মাধুরী' জাতীয় পুরস্কার। আরও পড়ুন-জাতীয় পুরস্কার পেলেন শাহরুখ খান, বিক্রান্ত ম্যাসি
জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন শাহরুখ খান
The 71st National Film Awards for the Best Actor in a Leading Role goes to Shah Rukh Khan for his winning performance in Jawan.#Jawan #ShahRukhKhan pic.twitter.com/etAw1Do9Gf
— Red Chillies Entertainment (@RedChilliesEnt) August 1, 2025
আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শাহরুখ খান কী কী পুরস্কার জিতেছেন--
ফিল্মফেয়ার (বলিউডের অস্কার হিসাবে পরিচিত): রেকর্ড ১৫ বার
শাহরুখ খান ১৫টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে ৮টি সেরা অভিনেতার বিভাগে। যা তাঁকে কিংবদন্তি দিলীপ কুমারের সঙ্গে এই বিভাগে সর্বাধিক বিজয়ীর রেকর্ডে সমান করে।
কোন কোন সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার জেতেন--
১৯৯৩: দিওয়ানা (সেরা অভিষেক)
১৯৯৪: বাজিগর (সেরা অভিনেতা)
১৯৯৬: দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে (সেরা অভিনেতা)
১৯৯৮: দিল তো পাগল হ্যায় (সেরা অভিনেতা)
১৯৯৯: কুছ কুছ হোতা হ্যায় (সেরা অভিনেতা)
২০০১: মোহব্বতেঁ (সমালোচকদের পুরস্কার – সেরা অভিনেতা)
২০০৩: দেবদাস (সেরা অভিনেতা)
২০০৫: স্বদেশ (সেরা অভিনেতা)
২০০৮: চক দে! ইন্ডিয়া (সেরা অভিনেতা)
২০১১: মাই নেম ইজ খান (সেরা অভিনেতা)
অন্যান্য: তিনি ৩টি বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে ২০০৩ সালে ফিল্মফেয়ার স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড সুইস কনস্যুলেট ট্রফি এবং ২০০৪ ও ২০০৫ সালে পাওয়ার অ্যাওয়ার্ড রয়েছে।
আইআইএফএ (IIFA) পুরস্কার (৬টি):
৬ বার ‘সেরা অভিনেতা’ হিসাবে সম্মানিত হয়েছেন—
সেই সিনেমাগুলি হল-
মোহব্বতেঁ, দেবদাস, বীর-জারা, চক দে ইন্ডিয়া, মাই নেম ইজ খান, ডন ২।
স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস (১৮টি):
সেই সিনেমাগুলি হল
১৯৯৬: দিওওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে
২০০২: কভি খুশি কভি গম
২০০৩: দেবদাস
২০০৮: চক দে
২০১১: মাই নেম ইজ খান
২০১৪-২০১৬: চেন্নাই এক্সপ্রেস থেকে দিলওয়ালে – টানা তিন বছর ‘জনপ্রিয় অভিনেতা’ ক্যাটাগরিতে।
জি সিনে পুরস্কার (১৩টি)
১৯৯৮: দিল তো পাগল হ্যায় (সেরা অভিনেতা)
১৯৯৯: কুছ কুছ হোতা হ্যায় (সেরা অভিনেতা)
২০০৩: দেবদাস (সেরা অভিনেতা)
২০০৮: চক দে! ইন্ডিয়া (সেরা অভিনেতা)
২০১২: ডন ২ (সমালোচকদের পুরস্কার – সেরা অভিনেতা)
প্রডিউসার্স গিল্ড ফিল্ম পুরস্কার (৫টি)
যার মধ্যে মাই নেম ইজ খান (২০১১, সেরা অভিনেতা) উল্লেখযোগ্য।
রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মান
অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন:
১৯৯৭: সেরা ভারতীয় নাগরিক পুরস্কার
২০০২: রাজীব গান্ধী পুরস্কার (বিনোদন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব)
২০০৫: পদ্মশ্রী (ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান)
২০০৭: ওর্দ্রে দেস আর্টস এট দেস লেট্রেস (ফ্রান্স সরকার, সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য)
২০১৪: লিজিয়ন অফ অনার (ফ্রান্সের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান)
২০০৮: মালয়েশিয়ার মালাক্কা রাজ্যের দাতুক উপাধি
২০১১: ইউনেস্কোর পিরামিদ কন মার্নি পুরস্কার (শিশুদের শিক্ষায় অবদানের জন্য, প্রথম ভারতীয় হিসেবে)
২০১৫: এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট (দাতব্য কাজের জন্য)
২০১২: মালয়েশিয়ার ব্র্যান্ড লরেট লিজেন্ডারি অ্যাওয়ার্ড
২০১৪: যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি
১৯৯৫: আঞ্জাম (ফিল্মফেয়ার সেরা খলনায়ক)
১৯৯৫: কভি হ্যাঁ কভি নাঁ (ফিল্মফেয়ার সমালোচকদের পুরস্কার – সেরা অভিনয়)
২০০৯: দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের টাইকোয়ান্ডোতে সম্মানসূচক ব্ল্যাক বেল্ট
২০১০: ফিক্কি ফ্রেমস অ্যাওয়ার্ড (দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী বিনোদনকারী)
২০১৪: হ্যাপি নিউ ইয়ার (বিগ স্টার এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ড)
২০২৪: পার্দো আল্লা ক্যারিয়েরা অ্যাওয়ার্ড
ম্যাগাজিন-ময়তা
২০০৪: টাইম ম্যাগাজিনের ৪০ বছরের কম বয়সী ২০ জন "এশিয়ান হিরো" তালিকায় স্থান
২০০৮: নিউজউইক ম্যাগাজিনের বিশ্বের ৫০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় ৪১তম স্থান২০১০: টাইম ম্যাগাজিনের টাইম ১০০ পোলে ১৩তম প্রভাবশালী ব্যক্তি