21 July TMC's Rally Live Update- কাটমানির পাল্টা ব্ল্যাকমানি, বিজেপি-র জয় হিস্ট্রি নয়, মিস্ট্রি বলে, ব্যালট ফেরানোর দাবি মমতার
আজ, রবিবার ২১ শে জুলাই। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই রাজ্য রাজনীতিতে দিনটা তোলা থাকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের হাতে প্রাণ হারান কংগ্রেস কর্মীদের স্মৃতিতেই এই দিনটাকে তৃণমূল পালন করে শহিদ দিবস হিসেবে।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র দেশজুড়ে ৩০৩টি আসন জয়কে কটাক্ষ করে ২১শে জুলাই দলের শহিদ দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বললেন, ''বিজেপি-র জয় হিস্ট্রি নয়, মিস্ট্রি। মানে লোকসভায় বিজেপি-র জয়ের পিছনে ইভিএম কারচুপির কারণে নরেন্দ্র মোদি-র ঐতিহাসিক জয় নয়, বরং রহস্যজনক বলে কটাক্ষ করলেন মমতা। তাই EVM-র বদলে দেশজুড়ে সব ভোট ব্যালট বক্সে করার দাবি তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি বিজেপি-কে চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিম মমতা ব্যানার্জি বললেন, এখন গণতন্ত্রকে পুরো বুলডোজ করা হচ্ছে, রাতারাতি বিল নিয়ে আসা হচ্ছে। বাংলায় হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই বাংলা মাথা নত করবে না, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব
লোকসভার ভোটে ইভিএম প্রতারণা করে, সিআরপিএফ দিয়ে, নির্বাচন কমিশন দিয়ে। বিজেপি-র জয়টা আসলে হিস্ট্রি নয়, মিস্ট্রি। অনেক রকম ভাবে ভোট করে একটা নির্বাচনে কিছু আসন পেয়েছে. আমার কাছে একটা ভিডিয়ো আছে, যেটাতে এক বিজেপি নেতা বলছেন, হিন্দুদের মরতে দাও।
সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করে। রাজীব গাঁধী ৪০০ আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু সংসদ ভাল করে চালাতে পারেননি। সিবিআই-কে দিয়ে ভয় দেখানো হবে, ইডি-কে দিয়ে ভয় দেখানো হবে। কিন্তু আপনারা এর প্রতিবাদ করবেন না
আমি একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নজর রাখার কথা বলেছিলাম। আর বিজেপি গিয়ে বলছে, কাটমানি ফিরিয়ে দাও। যেখানে যেখানে এসব করা হয়েছে আগামিকালই সেখানে পাল্টা মিছিল হবে। এর পাল্টা দিলে পারবেন তো রুখতে? বিজেপিকে ভোট দিলে ভাটপাড়া হয়। তৃণমূলের ৮ বছরে কাউকে বয়কট করা হয়নি।৩৪ বছরে হার্মাদরা যে অত্যাচার করেছে, তাতে আমরা কিন্তু, কারও গায়ে হাত দিইনি
১৮ আসন পেয়ে চিৎকার করছে, আমরা কারও গায়ে হাত দিইনি। বাইরের ধার করা নেতা এনে অশান্তি লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। আরএসএসের লোকজন আনা হচ্ছে। আজও গুড়াপে আমাদের কর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে যেখানে বাধা দিয়েছে বিজেপি, আগামিকাল সেখানেই প্রতিবাদ সভা হবে।
কয়েকটা আসন জিতে এমন শুরু করেছে, আমাদের পার্টি অফিস দখল করতে শুরু করেছে
''গণতন্ত্র ফিরিয়ে দাও, মেশিন নয় ব্যালট চাই।'' এটাই হবে শহিদ দিবসের মঞ্চে তৃণমূলের স্লোগান। ইভিএম-এ কোথাও একটা গন্ডগোল আছে, তাই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির দাবি এবার থেকে ভোট হোক ব্য়ালট বক্সে। লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের জন্য সব বিরোধী দলেরই ইভিএমের দিকে আঙুল। আদালত ফিরিয়ে দেওয়ায় আন্দোলন ছাড়া পথ নেই। তৃণমূল যে সেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকবে, তা বুঝিয়ে দিতেই এবারের একুশ।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই, নির্বাচন কমিশনের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট নয়।
২৬ বছর পর এবার, সেই কমিশনের কাছেই ফের দাবি, ইভিএম চাই না। ব্যালট ছাড়া ভোট নয়।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বছর যত বেড়েছে তৃণমূলের ২১শে জুলাই ধারেবারে তত বেড়েছে। কখনও কোনও বছর তৃণমূলের শহিদ দিবসের ভিড় নিয়ে বিরোধীরাও চ্যালেঞ্জ করেনি। তবে বিজেপি-র উত্থানের পর এবার ২১ শে জুলাই মমতার সভায় ভিড় কত হয় সেটা দেখার। বিজেপি-র দাবি মমতার সভা সেভাবে জমবে না। তৃণমূলের দাবি, এবার গতবারের চেয়েও বেশি ভিড় হবে, কারণ মমতার পাশে থাকার দাবিটা আরও জোরালো হয়েছে। দিদির অভিযোগ, ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে তাঁর সভায় মানুষকে আসতে না দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
গত বেশ কয়েক বছরের মত টলিউড তারকাদের দেখা যাবে এই ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চে। তবে টলিউডে এখন শাখা ছড়িয়ে বেশ কয়েকজন টলি শিল্পীকে নিজেদের দলে টেনেছে বিজেপি। এখন দেখার টলিউডের কারা এখনও মমতার সঙ্গে আছেন। কাটমানির গান গাওয়ার পর নচিকেতাকে দিদির মঞ্চে দেখা যায় কি না সেটাও দেখার।
তৃণমূলের সভায় আজ হাজির থাকতে পারেন ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর। লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর দলের হাল ফেরাতে প্রশান্ত কিশোরের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা। যে প্রশান্ত কিশোর ২০১৪ লোকসভায় নরেন্দ্র মোদি, ও বিহারে নীতীশ কুমারের জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। প্রশান্ত কিশোর ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে চাঙ্গা করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
রাজ্য ও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২১শে-র সভায় যোগ দিতে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। প্রতি বছরের মত এ বছরও পতাকা হাতে দলে দল মানুষ সভাস্থলের দিকে আসছে। ইতিমধ্যেই সভা অংশের ধারে বেশ কিছুটা জায়গা পুরোপুরি ভরে গিয়েছে। যানজট এড়াতে শনিবার রাত থেকে আজ, রবিবার সমাবেশ চলাকালীন, ও তার কিছু সময় পরে, বিকেল পর্যন্ত শহরে ট্রাক ঢোকা বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে ট্রাম পরিষেবাও।
আমহার্স্ট স্ট্রিট, বিধান সরণি, কলেজ স্কোয়্যার, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, স্ট্র্যান্ড রোড, রবীন্দ্র সরণি ও ব্রেবোর্ন রোডের গাড়িগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে অন্য রাস্তায়। গাড়ি পার্ক করা যাবে না এজেসি বোস রোড, কুইন্স ওয়ে, ক্যাথিড্রাল রোড, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ, হসপিটাল রোড, লাভার্স লেন ও ভিক্টোরিয়া লাগোয়া অঞ্চলে।
২১ জুলাইয়ের সভা শেষ করেই মমতা ব্যানার্জির জেলা সফরে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর প্রশাসনের কর্তারাদের নিয়ে প্রথমেই যাবেন উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে তিনি আমলাদের নিয়ে সরাসরি মানুষের অভিযোগের কথা শুনবেন।
কলকাতা, ২১ জুলাই: আজ, রবিবার ২১ শে জুলাই। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই রাজ্য রাজনীতিতে দিনটা তোলা থাকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের হাতে প্রাণ হারান কংগ্রেস কর্মীদের স্মৃতিতেই এই দিনটাকে তৃণমূল পালন করে শহিদ দিবস হিসেবে। সেদিন মহাকরণ অভিযান করতে পুলিশের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তবে নামে শহিদ দিবস হলেও, আসলে এই দিনটা অনেকটা তৃণমূল দিবস হিসেবেই পালিত হয়।
ধর্মতলায় দিদির সভায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষের ভিড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। কিন্তু এবার একেবারে অন্যরকম একটা ২১শে জুলাই। যেখানে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার চ্যালেঞ্জের মুখে দিদির সরকার। দু বছর পর বিধানসভা ভোট। তার আগে একের পর এক নেতা-বিধায়ক-জন প্রতিনিধিদের দল ছাড়ার ঘটনায় একেবারে কোণঠাসা তৃণমূল। তার ওপর আবার অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ-দের জিতিয়ে এনে চাঙ্গা মুকুল রায় রোজই তৃণমূল ভাঙার হুমকি দিচ্ছেন। যে মুকুলই ছিলেন একটা সময় ২১শে জুলাইয়ে মমতার সভার মূল উদ্যোক্তা।
গতবারের সঙ্গে এবার ২১শে জুলাইয়ের অনেক ফারাক। এবার ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে গতবারের কথা মনে করে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বললেন, ''রাজনীতি এমনই জিনিস। এখানে অনেক কিছুই দ্রুত বদলে যায়। এটা ঠিক লোকসভায় আমাদের ফল ভাল হয়নি। কিন্তু ২০০৪-এ এর চেয়ে অনেক খারাপ ফল করে ক বছরের মধ্যে চমকপ্রদ ফল করেছিলাম। রাজ্যের মানুষ শুধু মমতাকেই ভালবাসে। আমরা এবার ঘুরে দাঁড়াবোই।''