CWC Final 2023, IND vs AUS: নক আউটে বিপর্যয়ের ধারা অব্যাহত, যে আধ ডজন কারণে ফাইনালে ভরাডুবি হল টিম ইন্ডিয়ার

২০ বছর আগের প্রতিশোধ নেওয়া হল না। আরও একবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল ভারত।

২০ বছর আগের প্রতিশোধ নেওয়া হল না। আরও একবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল ভারত। আর একবার আইসিসি ট্রফির ফাইনালে হারল টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ডে ২০২২ বিশ্ব টেস্ট চ্য়াম্পিয়নশিপের ফাইনালে ১৬৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ভারতকে হারিয়েছিলেন অজি তারকা ট্র্য়াভিস হেড। এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে এদিন আমেদাবাদে হেড অনবদ্য ইনিংস খেলে ভারতের স্বপ্নভঙ্গ করলেন।

টানা ১০টা ম্যাচ অনায়াসে জিতে ফাইনালে ওঠা ভারত কেন ফাইনালে মুখথুবড়ে পড়ল। হারের ঠিক পরেই প্রাথমিক ময়নাতদন্তে নেমে পড়লাম আমরা। আরও পড়ুন-বিশ্বকাপ ফাইনালে হার ভারতের, ষষ্ঠবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

দেখুন রবিবার আমেদাবাদে ফাইনালে ভারতের ভরাডুবির বড় পাঁচ কারণ

১) ফাইনালে মানসিক চাপ সামলাতে ব্যর্থ হওয়া:

২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল (প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা), ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল (প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল (নিউ জিল্য়ান্ড), ২০২১ বিশ্ব টেস্ট চ্য়াম্পিয়নশিপের ফাইনাল (নিউ জিল্যান্ড), ২০২২ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল (অস্ট্রেলিয়া), ২০২২ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল (ইংল্যান্ড)। আইসিসি ট্রফিতে নক আউটে হারের ধারা অব্যাহত থাকল। এদিন আরও পরিষ্কার হয়ে গেল, ভারতীয় দলে মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বোর্ডের কাছে এখন চ্য়ালেঞ্জ টিম ইন্ডিয়ার জন্য বিশেষ মনোবিদের ব্যবস্থা করা।

রবিবার আমেদাবাদে শুবমন গিল, সূর্যকুমার যাদব, কুলদীপ যাদবদের শরীরভাষা বলে দিল বড় ম্যাচে দলটা মানসিক চাপ নিতে পারছে না। নক আউটে চাপ নিতে না পারার সমস্যাটা ধোনির আমল থেকে শুরু হয়েছে কোহলির জমানায় সমস্যাটা বিরাট হয়ে দেখা গিয়েছিল। রোহিত নেতৃত্ব নেওয়ার পর সেই সমস্যাটা আরও ছড়িয়ে পড়েছে।

২) দলটায় বড় কাপ না জেতার অভিজ্ঞতা না থাকা:

বর্তমান ভারতীয় দলে তারকার ছড়াছড়ি। ম্য়াচ উইনারও অনেক। কিন্তু বড় কাপ জেতার অভিজ্ঞতা বিরাট কোহলি ছাড়া কারও নেই। আইসিসি ট্রফিতে সবার হারের অভিজ্ঞতা কম বেশী আছে। সেটা এদিন ফ্যাক্টার হয়ে দাঁড়াল। সর্বোচ্চ মঞ্চে ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগে।

৩) ব্যাটারদের খারাপ শট নির্বাচন: রোহিত শর্মা, শুবমন গিল থেকে শ্রেয়স আইয়ার, সূর্যকুমার যাদব। একের পর ব্যাটাার উইকেট ছুড়ে আসেন। আবার ইনিংসের মাঝে লোকেশ রাহুল, রবীন্দ্র জাদেজারা অজি বোলারদের অতিরিক্ত সমীহ দেখিয়ে মাথায় চড়তে দিলেন। ভারতীয় ব্যাটারদের খারাপ শট নির্বাচন এদিন ডোবালো।

৪) জাদেজা, কুলদীপদের খারাপ বোলিং: ৪৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে জশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সামিরা ভারতকে চালকের আসনে বসিয়েছিলেন। সেখান থেকে দায়িত্ব নিতে হত জাদেজা, কুলদীপকে। আমেদাবাদের পিচে স্পিনারদের জন্য সাহায্য ছিল সেটা জাম্পা, ম্যাক্সওয়েলরা প্রমাণ করেছিলেন। সেই পিচে জাদেজা দিলেন ৪৩, কুলদীপ ৫৬। দুজনে মিলে কুড়ি ওভার বল করে ৯৯ রান দিলেও পেলেন না একটা উইকেট। স্পিনারদের বোলিং হিসেব এমন হলে ভারতের পিচে জেতা যায় না।

৫) অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের খেসারত: টানা ১০টা ম্যাচে জিতে ফাইনালে উঠে টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে একটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ছিল। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ঠিক সেই জায়গাটা তুলে ধরল।

৬) অস্ট্রেলিয়ার অনবদ্য ক্রিকেট:

টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া থেকে শুরু করে দুরন্ত বোলিং, অসামান্য ফিল্ডিং। তারপর রান তাড়া করতে নেমে ট্রাভিস হেডের স্মরণীয় ১৩৭ রান, এবং লাবুশানের ৫৮ রানের ইনিংস। কিংবা চতুর্থ উইকেটে হেড-লাবুশানের ১৯২ রানের পার্টনারশিপ। প্রতিপক্ষ এমন খেলে দিলে হারতে হয়।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement