Modern Christmas 2024: আধুনিক ক্রিসমাসে জেনে নিন প্রাচীন ক্রিসমাসের ঐতিহ্য...

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন, যা পালন করা হয় সারা বিশ্বে। পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে ক্রিসমাসকেও রঙিন করা হয়েছে, কিন্তু বড়দিনের ঐতিহ্য এখনও উৎসবে দৃশ্যমান। আধুনিক ক্রিসমাস অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত, যেমন উপহার বিনিময়, ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এবং সান্তা ক্লজের উপস্থিতি। প্রাচীন ক্রিসমাসের এই ঐতিহ্য আধুনিক দিনের বড়দিনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর পালন করা হয় ক্রিসমাস, প্রভু যীশু খ্রিস্টের জন্মবার্ষিকী চিহ্নিত করে এই দিনটি। পৃথিবীতে যীশুর আগমন হিসেবে এই দিনটি বিবেচনা করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়। বিশ্বাস অনুসারে, মানবতার মুক্তির জন্য এসেছিলেন যীশু। ধর্মীয় উপলক্ষ হিসেবে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, স্তোত্র ও সঙ্গীত ইত্যাদির মাধ্যমে সূচনা হয় এই উৎসবের। রোমান সাম্রাজ্যে 'সোল ইনভিকটাস' নামের সঙ্গে বড়দিনের ইতিহাস জড়িত, যেটি সূর্য দেবতার উৎসব হিসেবে পালিত হত, এটি সূর্যের পুনঃআবির্ভাব এবং শীতের মাসের শেষকে চিহ্নিত করে। ২৫ ডিসেম্বরের দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাতে এই উৎসবের মাধ্যমে প্রভু যীশুর জন্মের গুরুত্ব বলা যেতে পারে।

ইউরোপের প্রাচীন বৃক্ষ-পুজোর সঙ্গে যুক্ত ক্রিসমাস ট্রির ঐতিহ্য। ১৬ শতকে জার্মানিতে, বাড়িতে দেবদারু গাছ সাজানো হয়, এই গাছ ছিল মূলত প্রকৃতি ও জীবনের প্রতীক। সময়ের সঙ্গে ঐতিহ্য বিকশিত হওয়ার কারণে বর্তমানে গাছ মোমবাতি, ফুল এবং অন্যান্য চকচকে জিনিস দিয়ে সাজানো শুরু করা হয়। ১৯ শতকে, ক্রিসমাস-ট্রি সাজসজ্জাকে জনপ্রিয় করেছিলেন ইংল্যান্ডের প্রিন্স অ্যালবার্ট (ভিক্টোরিয়ার স্বামী), তাই এই ঐতিহ্য ইংল্যান্ড এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে বিকশিত হয়। বর্তমানে ক্রিসমাস ট্রিতে কৃত্রিম সাজসজ্জা, আলো এবং অন্যান্য আধুনিক জিনিসপত্র স্থাপন করা হয়, যা পুরো বাড়ির সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তোলে। অন্যান্য ধর্মের মানুষও পালন করে এই প্রথা। এছাড়া সেন্ট নিকোলাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সান্তা ক্লজ, চতুর্থ শতাব্দীর একজন ধর্মীয়-মনস্ক ব্যক্তি। তিনি তার উদারতা এবং শিশুদের উপহার দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। তুর্কিয়ের একটি শহর পাত্তারাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নিকোলাস এবং গরিব-দুঃখীদের সবরকম সাহায্য করতেন তিনি। একই সময়ে ১৯ শতকে, আমেরিকান সংস্কৃতিতে সান্তা ক্লজের একটি নতুন রঙিন রূপ বিকশিত হয়েছিল। কোকা-কোলা কোম্পানির দ্বারা প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে সান্তাকে লাল পোশাকে দেখা যায়, যা বর্তমান সান্তা ক্লজের প্রতিনিধিত্ব করে। সান্তা ক্লজের এই রূপটি বড়দিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে 'ক্রিসমাস ক্যারল' গাওয়ার একটি অতি প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে এবং এর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। মান্যতা রয়েছে যে ১২ শতকে, 'ক্রিসমাস ক্যারল' ব্যাপকভাবে গাওয়া হত, কিন্তু এই গানগুলি শুধুমাত্র গীর্জাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯ শতকে ক্রিসমাস ক্যারলগুলি একটি নতুন আকারে প্রসারিত হয়, যা সময়ের সঙ্গে সুখ এবং আনন্দের প্রতীক হয়ে ওঠে। ক্রিসমাসের সবচেয়ে পছন্দের গান হল 'জয় টু দ্য ওয়ার্ল্ড' এবং 'সাইলেন্ট নাইট' যা এখনও প্রতি ক্রিসমাসে গাওয়া এবং পছন্দ করা হয়। এছাড়া ক্রিসমাসে উপহারের ঐতিহ্য সান্তা ক্লজ এবং সেন্ট নিকোলাসের সঙ্গেও জড়িত। সেন্ট নিকোলাস দরিদ্র শিশুদের উপহার দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন, এই ঐতিহ্য ক্রিসমাসে উপহার দেওয়ার জন্য ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। ক্রিসমাসে পরিবার এবং বন্ধুরা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে উপহার বিনিময় করে। এছাড়া বড়দিনে টার্কি, হ্যাম, ক্রিসমাস পুডিং এবং বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রতিটি বাড়িতে প্রস্তুত করা হয়। বড়দিন উদযাপনের পরে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে এই খাবারগুলি উপভোগ করে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement