Russian Woman Lives In Indian Cave: ২১ বছরের ছেলের মৃত্যু, ১১ বছরের সন্তান নিখোঁজ, ২ মেয়েকে নিয়ে রাশিয়া থেকে ভারতে এসে গুহায় ঢুকে আর বেরোননি কেন রুশ মহিলা? রহস্যের ঘেরাটোপে ঘটনা
গোকর্ণের গুহা জীবনে তাঁরা সকালে ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর নদীতে যান স্নান করতে। তারপর সারাদিন প্রকৃতির মাঝে থাকেন। এই ধরনের জীবনযাপনে তাঁদের কোনও সমস্যা হয় না বলেও জানান ওই রুশ মহিলা।
বেঙ্গালুরু, ১৬ জুলাই: রুশ নাগরিক (Russian Woman) নীনা কুটনিয়াকে কর্ণাটকের (Karnataka) গোকর্ণ গুহা (Gokarna Cave) থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। ৬ এবং ৪ বছরের ২ ছোট কন্যা সন্তানের সঙ্গে রুশ নাগরিক নীনাকে পুলিশ (Police) উদ্ধার করে গোকর্ণ থেকে। নীনা কেন কর্ণাটকের গুহায় থাকছিলেন, এমন প্রশ্ন বিভিন্নভাবে উঠতে শুরু করেছে। যার উত্তরে নীনা বিভিন্ন ধরনের উত্তর দিচ্ছেন। কখনও তিনি দাবি করেন, প্রকৃতির মাঝে থেকে তিনি এবং তাঁর সন্তানরা শান্তি পান। আবার কখনও বলছেন, পরিবারকে ঝামেলায় ফেলতে চান না রাশিয়ায় ফেরার তোড়জোড় করে। তাই ভারতেই থেকে যেতে চান তাঁরা। আবার নীনা কখনও দাবি করেন, ভারত এবং এখানকার মানুষকে তিনি ভালবাসেন। তাই ভারত (India) ছেড়ে রাশিয়ায় আর ফিরতে চান না বলে দাবি করেন নীনা কুটনিয়া।
গোকর্ণ গুহা থেকে নীনাকে উদ্ধার করে পুলিশ জানতে পারে, ওই রুশ মহিলার ২১ বছরের এক ছেলের মৃত্যু হয়েছে। বাইক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ১১ বছরের ছোট ছেলে কোথায় রয়েছে, তা নীনা জানেন না। তাই আপাতত ৬ এবং ৪ বছরের দুই খুদে সন্তানকে নিয়ে নীনা গোকর্ণ গুহায় থাকছেন বলে জানান।
রিপোর্টে প্রকাশ, নীনা ২০১৬ সালে ভারতে আসেন বাণিজ্য ভিসা নিয়ে। ২০১৭ সালে ওই বাণিজ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় নীনা। ওই সময় তিনি ভারত ছেড়ে নেপালের পথে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নীনা আর নেপালে যাননি। তিনি ভারতে ফিরে আসেন। প্রথমে গোয়া যান। তারপর গোয়া থেকে কর্ণাটকের গোকর্ণে ফিরে আসেন এবং সেখানেই শুরু করেন বসবাস। গোকর্ণের যে আধ্যাত্মিক রূপ রয়েছে, তাতে আকৃষ্ট হয়েই রুশ মহিলা দুই সন্তান নিয়ে পাহাড়ের খাঁজে নিরিবিলিতে বসবাস শুরু করেন বলে দাবি করেন।
এসবের পাশাপাশি নীনা আরও জানান, গত ১৫ বছর ধরে তাঁরা ২০টি দেশে ঘুরেছেন। সেখানকার প্রকৃতি, মানুষজনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তবে ভারতের মত শান্তি কোথাও পাননি।
গোকর্ণের গুহা জীবনে তাঁরা সকালে ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর নদীতে যান স্নান করতে। তারপর সারাদিন প্রকৃতির মাঝে থাকেন। এই ধরনের জীবনযাপনে তাঁদের কোনও সমস্যা হয় না বলেও জানান ওই রুশ মহিলা।
এরপরই নীনার আরও সংযোজন, প্রকৃতির কোল থেকে সরিয়ে তাঁদের নোংরা জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। যেখানে ভাত ছাড়া খাবার আর কিছুই নেই। তাঁদের কাছ থেকে অনেক জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী তাঁর মৃত সন্তানের অস্থিও। যা তাঁর কাছে ছিল। তাই প্রকৃতি ছেড়ে মানুষের সঙ্গে তিনি এবং তাঁর সন্তানরা থাকতে চান না বলে জানান নীনা।