Tokyo Rains: টানা ৩৭ দিন ধরে বৃষ্টি টোকিওতে! ১৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে আবহাওয়ার অভূতপূর্ব বিপর্যয় জাপানে
জলবায়ুর এমন খামখেয়ালিপনায় কার্যত স্তম্ভিত আবহাওয়া বিদরা। গত ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে শুক্রবার, ২ অক্টোবর পর্যন্ত। টানা ৩৭ দিন ধরে বৃষ্টিপাতের সাক্ষী থাকল সূর্যোদয়ের দেশের রাজধানী।
Tokyo Rains:মেঘলা আকাশ, অবিরাম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি। বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এটাই জাপানের রাজধানী টোকিওর দৈনন্দিন দৃশ্য। জলবায়ুর এমন খামখেয়ালিপনায় কার্যত স্তম্ভিত আবহাওয়া বিদরা। গত ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে শুক্রবার, ২ অক্টোবর পর্যন্ত। টানা ৩৭ দিন ধরে বৃষ্টিপাতের সাক্ষী থাকল সূর্যোদয়ের দেশের রাজধানী। ১৮৭৬ সালে জাপানে আনুষ্ঠানিকভাবে আবহাওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা শুরু হওয়ার পর থেকে এত দীর্ঘ টানা বর্ষণের নজির আর নেই।
নজির ভাঙা বৃষ্টি টোকিওতে
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ জুন থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত টানা ৩৩ দিন বৃষ্টি হয়েছিল টোকিওতে। এতদিন পর্যন্ত সেটিই ছিল দীর্ঘতম বর্ষণের রেকর্ড। তবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ ধারাবাহিকতার ৩৪ নম্বর দিনে সেই পুরনো রেকর্ড মুছে যায়। গোটা সেপ্টেম্বর মাসটিতে একদিনের জন্যও রোদের মুখ দেখেননি টোকিওবাসী। পরিসংখ্যান বলছে, মধ্য টোকিওর চিওডা ওয়ার্ডের কিতানোমারু পার্কের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সেপ্টেম্বরে প্রায় ৬২৯ থেকে ৬৯৬.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। আবহাওয়া দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্ষণের এই তালিকায় ০.৫ মিলিমিটারের কম ছিটেফোঁটা বৃষ্টিকেও ধরা হয়েছে।
কেন এই বিপত্তি
কিন্তু কেন এই অভূতপূর্ব দুর্যোগ? আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা শরৎকালীন এক বিশেষ 'রেইন ফ্রন্ট'-এর কারণেই এই বিপত্তি। তার ওপর 'ক্রোভান' এবং 'ডুজুয়ান'-এর মতো সামুদ্রিক টাইফুনের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'এল নিনো'র প্রভাব এবং প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ বলয়। এই সার্বিক পরিস্থিতির জেরেই দীর্ঘায়িত হয়েছে বর্ষণ। ২১ সেপ্টেম্বর টোকিওতে একদিনেই ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা এই ৩৭ দিনের মধ্যে সর্বাধিক। সেপ্টেম্বরে রোদ পাওয়ার সময়সীমা কমে স্বাভাবিকের মাত্র ৪০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
দেখুন টোকিও-র বৃষ্টি
অবিরাম বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ায় প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। টানা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও নিম্নচাপের কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে মাথাব্যথা, মাথাঘোরার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগে বাসিন্দাদের গ্রাস করেছে 'রেইন ফ্যাটিগ' বা বর্ষাজনিত অবসাদ। ভেজা জামাকাপড় শুকাতে না পেরে লন্ড্রিগুলোতে উপচে পড়ছে ভিড়। বাইরে বেরোনো মানেই সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছাতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জাপানি সংবাদমাধ্যম ও নেটপাড়ায় ব্যঙ্গ করে এই পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে নূহের নৌকার সেই ঐতিহাসিক '৪০ দিনের প্রলয়ঙ্করি বৃষ্টি'-র সঙ্গে।
দেখুন ভিডিও
জলের তলায় টোকিও
এর সরাসরি কোপ পড়েছে অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রেও। টোকিও ও তার আশপাশের এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন জলের তলায়। ফসল নষ্ট হওয়ায় শাকসবজি, বিশেষ করে লেটুস ও অন্যান্য পাতাজাতীয় সবজির দাম আগুন। ধস নেমেছে পর্যটন ও বহিরাঙ্গন বিনোদন ব্যবসায়। ১৯৫০ সালের পর এ বছরের মোট বৃষ্টিপাত অতীতের বহু সূচককে ছাপিয়ে গিয়েছে।
কী বলছে পূর্বাভাস
তবে এই টানা বর্ষণ থেকে অবশেষে মুক্তি মিলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে আগামী ৩ অক্টোবরের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে। চলতি সপ্তাহান্তেই টোকিওবাসী রোদঝলমলে আবহাওয়া উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।