Pakistan Airstrikes in Afghanistan: আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, শিশু ও মহিলা সহ হত ৯
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় গভীর রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানি সামরিক বিমানের চালানো এই হামলায় অন্তত ৯ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও মহিলারা রয়েছেন।
Pakistan Airstrikes in Afghanistan: আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় গভীর রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাকিস্তানি সামরিক বিমানের চালানো এই হামলায় অন্তত ৯ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও মহিলারা রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আরও অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তালিবান পরিচালিত আফগান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান, আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের শালতান জেলার চোগাম এলাকা এবং হেলমান্দ প্রদেশের গরমসির জেলার সফর এলাকায় আবাসিক বাড়িঘর লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়।
আফগানিস্তানে বিমান হামলা পাকিস্তানের, দেখুন ভিডিও
সীমান্ত অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষয়ক্ষতি
আফগান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বোমাবর্ষণে দুটি প্রদেশের মোট তিনটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহত ও আহতদের বের করে আনার কাজ করছেন।
কী বলছে তালিবান
জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই অভিযানের কড়া নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিমান কুনারের চুগাম এবং হেলমান্দ প্রদেশের সফর এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে মহিলা ও শিশুসহ ৯ জন আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, ১১ জন আহত হয়েছেন এবং ৩টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।" তিনি এই ঘটনাকে স্পষ্ট আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
লক্ষ্যবস্তু নিয়ে দু'দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
পাকিস্তানের সামরিক বা বেসামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট বিমান হামলার সার্বিক বিষয়ে এখনও কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। তবে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা সংস্থাসমূহ এর আগেও একাধিকবার দাবি করেছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সাধারণ নাগরিকের ওপর নয়, বরং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির নিরাপদ আস্তানাকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায়। বিশেষ করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান দুর্গম সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির আস্তানা গুড়িয়ে দিতে আফগান প্রশাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আসছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, কাবুলের আফগান প্রশাসন তাদের মাটিতে কোনো পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকারের বক্তব্য, পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ডের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি
২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন বরাবর গত কয়েক দিনে একাধিক সীমান্ত সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন করে চালানো এই বিমান হামলা সেই উত্তেজনায় ঘৃতাহুতি দিল। এর আগেও খোস্ত, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের এ জাতীয় বিমান ও কামান হামলায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সীমান্ত পেরিয়ে বারবার এই ধরনের সামরিক হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং সীমান্তসংলগ্ন সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর করবে।