Nepal Flash Flood 2026: নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫, নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি

Nepal Flash Flood 2026: নেপাল-চিন সীমান্তে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

Relatives console Muna Khadka, center, who lost her son Aayush Khada, in flash floods, during mass burials in Chitwan, Nepal, Monday, Aug. 31, 2026. (AP Photo/Dar Yasin)

Nepal Flash Flood 2026: নেপাল-চিন সীমান্তে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। উদ্ধারকাজের তীব্র গতি বাড়ানোর মাঝেই শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৯৫৫-তে। সোমবার নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪,৪৭১ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বৃহৎ বিপর্যয় সামাল দিতে যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল। কাদা, বড় পাথর ও ধসে বুজে যাওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

দেখুন ভিডিও

১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার

সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, এ পর্যন্ত ১১,৩৭৯ জনেরও বেশি মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল ও প্লাবিত অঞ্চল থেকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে শত শত বিদেশী পর্যটক ও পুণ্যার্থীও রয়েছেন। জীবনহানি ঠেকানো এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩,৭০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ইতিমধ্যে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলিও এই উদ্ধার উদ্যোগে হাত বাড়িয়েছে।

দেখুন ভিডিও

পরিস্থিতির মূল আপডেটগুলি

বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: নেপাল ও চীন মিলিয়ে সরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫৫ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪,৪৭১ জন।

সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক: কাদামাটি ও পাথরে বুজে যাওয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির টানেলে অন্তত ৯০০ জনের বেশি শ্রমিক এখনও নিখোঁজ।

ভোটেরকোশী-ত্রিশূলী নদী অববাহিকার একটি নির্দিষ্ট সুড়ঙ্গেই প্রায় ৯৩ জন শ্রমিক পাথর ও ধসের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানবিক সংকট ও পানীয় জলের অভাব: রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) হিসেব অনুযায়ী, প্লাবিত অঞ্চলে প্রায় ৬৫,০০০ মানুষের জরুরি ভিত্তিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাবার ও স্বাস্থ্যপরিষেবা প্রয়োজন।

আবহাওয়া দপ্তরের নয়া সতর্কবার্তা: চিনের আবহাওয়া দপ্তরের মতে, জিরোং (Gyirong) অঞ্চলে ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয় ব্যারিয়ার লেকের জলের স্তর বৃদ্ধি পেয়ে আবারও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা:রসওয়া জেলার প্রায় ৩০ শতাংশ গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানো হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলিতে যাতায়াত চালুর উদ্দেশ্যে ছয়টি ৪৮ মিটারের বেলি ব্রিজ এবং একটি ৭০ মিটারের ব্রিজ বসানোর কাজ জোরকদমে চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তনই কি মূল কারণ?

নেপালের উত্তরপ্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী চিনের এই প্রলয়ঙ্করী বন্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, রসওয়া জেলার এই বন্যা কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও শিলাখণ্ডধসের (Glacial Avalanche) ফলেই এই মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় পার্বত্যাঞ্চলে ঝুঁকি যে বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে নেপাল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement