Nepal Flash Flood: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা চারশো পার, নিখোঁজ অন্তত ২৯০ ভারতীয় নাগরিক

ভয়াবহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যয় নেমে এসেছে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ৪০২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

Nepal Flash Floods. (Photo Credits:X)

Nepal Flash Flood:  ভয়াবহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যয় নেমে এসেছে নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ৪০২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আটকে থাকা শত শত মানুষের মধ্যে অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নেপাল প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

হিমবাহে ধসের কারণেই এই মহাবিপর্যয়

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের গুঞ্জন উঠলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) নিশ্চিত করেছে যে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি বিশালাকার হিমবাহ ভেঙে পড়ে এবং পাথর-বরফের ধস নামে। এই ধসের ফলে লেন্দে নদী সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড গতিতে জল, পাথর ও কাদা ধেয়ে আসে ভোটে কোশী ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায়, যা পরবর্তীতে প্রলয়ঙ্করী বন্যার আকার নেয়।

দেখুন ভিডিও

নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয়, চলছে উদ্ধার অভিযান

বন্যা বিধ্বস্ত এলাকাগুলি থেকে এ পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন শ্রমিক এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া কৈলাশ মানস সরোবর ও গোসাইকুণ্ডগামী অনেক ভারতীয় পর্যটক এখনও বিভিন্ন স্থানে আটকে রয়েছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। এ পর্যন্ত ভারত সরকার তাঁবু, কম্বল, ওষুধ ও শুকনো খাবারসহ মোট ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

নতুন বিপদ: কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টির কারণে ফের বন্যার আশঙ্কা

ত্রাণ ও উদ্ধারের মাঝেই নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। ভোটে কোশী নদীর ওপর একটি বড়সড় কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমে রয়েছে। চীন প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে আরও জল জমে এই বাঁধটি ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলে ফের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি

বন্যায় নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। নোয়াকোটের বেত্রাবতী থেকে রসুওয়াগাধী পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রাস্তা ধসে গেছে। অন্তত ৩৫টি গাড়ি চলাচলের সেতু এবং ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ত্রিশূলী ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও উদ্ধারকারী দলগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা। নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে দুর্গম এলাকাগুলিতে এখনও নিখোঁজদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement