Nepal Flood: নেপালে ফের আকস্মিক বাণ, বুড়ি গণ্ডকী নদীতে বিপর্যয়, একের পর এক ভেসে গেল ঘরবাড়ি ও সেতু
ফের বড় বিপর্যয় নেপালে। গোরখা (Gorkha) জেলায় বুড়ি গণ্ডকী (Budhi Gandaki) নদীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
Nepal Flood: ফের বড় বিপর্যয় নেপালে। গোরখা (Gorkha) জেলায় বুড়ি গণ্ডকী (Budhi Gandaki) নদীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ধসের ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে নেমে আসা কাদাজল ও পাথরের স্রোতে ভেসে গিয়েছে একের পর এক বসতবাড়ি, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ ক্যাম্প। বানের ধ্বংসলীলায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উত্তর গোরখার বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
যেভাবে শুরু ভয়াবহ বিপর্যয়
আজ, রবিবার ভোর চারটে নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে বিকট গর্জন শুনতে পান। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চুমনুব্রি (Chumnubri) গ্রামসভার লো কপা (Lokpa) ও চুমলিংয়ের (Chumling) মাঝামাঝি এলাকায় পাহাড়ে এক বিশাল শুকনো ধস (Dry Landslide) নামে। এই ধসের ফলে বুড়ি গণ্ডকী নদীর মূল প্রবাহ অথবা তার অন্যতম প্রধান উপনদী শিয়ার খোলা (Syar Khola) অবরুদ্ধ হয়ে জল জমে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে বিশাল কাদা ও পাথরের পাহাড়ি পাহাড়ি ঢল নিচের দিকে ধেয়ে আসে।
দেখুন ভিডিও
ক্ষয়ক্ষতি ও ভিটেমাটি হারানোর চিত্র
বানের তোড়ে উত্তর গোরখার বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০টিরও বেশি ঘরবাড়ি বানের জলে ভেসে গিয়েছে, আবার কিছু প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৩৫ বা তারও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। জগত (Jagat), সল্লেরি (Salleri), পাইয়ু (Paiyu) ও বগর (Bagar) সহ আশেপাশের লোকালয়ে জল ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। বানের তোড়ে দুটি ঝুলন্ত পদসেতু এবং সোটি (Soti) এলাকার একটি স্টিলের মোটরসেতু সম্পূর্ণ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় একাধিক গ্রামের সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া, ৩৪১ মেগাওয়াটের বুড়ি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ ক্যাম্প ও যন্ত্রপাতি ঢলের জলে ভেসে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। মাচাকোলাসহ নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বাড়িতে জল ও কাদা ঢুকেছে এবং সল্লেরি এলাকার অন্তত ২০ থেকে ২২টি বাড়ি সরাসরি ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
দেখুন ভিডিও
স্বস্তির খবর: প্রাণহানি নেই, তৎপর সেনাবাহিনী
এত বড় ধ্বংসলীলা সত্ত্বেও স্বস্তির বিষয় হলো, জেলা প্রশাসনের মতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। নদীর হঠাৎ গতি পরিবর্তন ও বিকট শব্দ শুনে ভোরবেলাতেই বহু মানুষ গৃহত্যাগ করে উঁচুতে আশ্রয় নেওয়ায় বড় ধরনের হতাহত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ও উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী (Nepali Army), নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বল। হেলিকপ্টার এবং স্থানীয় তল্লাশি দলের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে।
পাঁচ জেলায় হাই অ্যালার্ট ও সতর্কতা জারি
সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি করে। গোরখা জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, আরুঘাট (Arughat) পয়েন্টে বুড়ি গণ্ডকীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে অব্যাহতভাবে বাড়ছে। চুমনুব্রি থেকে শুরু করে ত্রিশূলী দোভান (Trishuli Dobhan) পর্যন্ত পুরো নদী তীরবর্তী অঞ্চল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে গোরখা, তানাহুন (Tanahun), চিতওয়ান (Chitwan), পূর্ব নবলপরাসী এবং পশ্চিম নবলপরাসী, এই পাঁচ জেলাকে উচ্চ সতর্কতায় (High Alert) রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের আগস্টে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় যেখানে ১,৪৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, এই ঘটনা সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রশাসন নদীর তীরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং জল না কমা পর্যন্ত নদী পারাপার বা কাছে না ঘেঁষার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।