Indonesia Earthquake Video: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, বড় ক্ষয়ক্ষতি ও একাধিক আফটারশকের খবর

রবিবারের প্রথম প্রহরে এক শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা (NTT) প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সুম্বা অঞ্চল। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, আবহাওয়াবিজ্ঞান ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (BMKG) প্রথমে এই কম্পনের মাত্রা ৬.১ নির্ধারণ করলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৫.৯ বলে জানায়।

Earthquake.

Indonesia Earthquake Video: রবিবারের প্রথম প্রহরে এক শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা টেঙ্গারা (NTT) প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সুম্বা অঞ্চল। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, আবহাওয়াবিজ্ঞান ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (BMKG) প্রথমে এই কম্পনের মাত্রা ৬.১ নির্ধারণ করলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৫.৯ বলে জানায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থা (USGS)-ও ভূকম্পনের মাত্রা ৫.৯ ছিল বলে নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ভূমিকম্পটি কোথায় আঘাত হানে

স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ০৫:৫৫:৫২ (WIB) বা মাকাসার সময় প্রায় ০৬:৫৫-এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উপকেন্দ্র ছিল সমুদ্রতলদেশে, দক্ষিণ-পশ্চিম সুম্বার কোডি শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, আনুমানিক ৯.৭০° দক্ষিণ অক্ষাংশ এবং ১১৮.৯২° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পটি মূলত অগভীর অঞ্চলের একটি টেকটোনিক ঘটনা ছিল। BMKG প্রথমে এর গভীরতা ১০ কিলোমিটার বললেও পরবর্তীতে তা ৩০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করে, অন্যদিকে USGS গভীরতা প্রায় ৪৬ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ওয়াইকাবুবাক (Waikabubak) ফল্ট লাইনের স্বাভাবিক চ্যুতি বা ‘নরম্যাল ফল্টিং’ প্রক্রিয়ার কারণে এই কম্পন তৈরি হয়। উৎসের গভীরতা কম হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের প্রভাব ছিল তীব্র।

দেখুন ভিডিও

মিনিটখানেক কম্পন অনুভূত হয়

দক্ষিণ-পশ্চিম সুম্বা, পশ্চিম সুম্বা এবং পশ্চিম মাঙ্গারাই প্রশাসনিক অঞ্চলে প্রায় এক মিনিট ধরে ভূকম্পন অনুভূত হয়। মোডিফাইড মার্সালি ইনটেনসিটি (MMI) স্কেলে কোডি বালাঘর, কোডি বাঙ্গেডো এবং কোডি অঞ্চলে এর তীব্রতা ছিল VI MMI, যার ফলে অধিবাসীদের বড় অংশ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া তামবোলাকা, ওয়াইকাবুবাক, ওয়াইবাকুল এবং রাবা এলাকায় IV MMI এবং বিমা অঞ্চলে III MMI তীব্রতার কম্পন টের পাওয়া যায়।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BPBD) ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। প্রাথমিক খবরে বড় ধরণের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য না থাকলেও বেশ কিছু জায়গায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে। পেরোকোন্ডা এবং ওয়াইকানিনো এলাকায় দুটি বসতবাড়ি ও একটি ইসলামিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (SD Islam) আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে কিছু ঘরের বারান্দা ধসে পড়েছে। তামবোলাকা অঞ্চলের প্রায় ১০টি বাড়িতে ফাটল এবং কম-বেশি ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ঘটনায় অন্তত এক ব্যক্তি সামান্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আফটারশক চলছেই

মূল ঘটনার পর এলাকায় ধারাবাহিক আফটারশক অব্যাহত থাকে। BMKG-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সকাল ০৮:০৫ WIB পর্যন্ত অন্তত ৬২টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়, যেগুলোর মাত্রা ছিল ১.৫ থেকে ৪.৩-এর মধ্যে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ২.০ থেকে ৪.৪ মাত্রার আফটারশক চলতে থাকে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো অসত্য বা অলীক গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি বার্তার ওপর আস্থা রাখতে বলেছে। ফাটল ধরা ভবন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়িয়ে চলার পাশাপাশি আফটারশকের আশঙ্কায় আপাতত সামুদ্রিক উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করতে সতর্ক করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার অন্য দুটি অঞ্চলেও পৃথক ভূকম্পন

একই দিন সকালে ইন্দোনেশিয়ার অন্য দুটি অঞ্চলেও পৃথক ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। সুম্বার ঘটনার মাত্র ৪০ মিনিট পর আচেহ জয়া (উত্তর সুমাত্রা) এলাকায় ৫.৮ থেকে ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, যাতে কোনো সুনামির আশঙ্কা ছিল না। পাশাপাশি পশ্চিম জাভার দক্ষিণ সুকাবুমিতে ৪.২ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। সুম্বার ঘটনার সর্বাত্মক তদারকি চালু রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকায় কোনো বৃহৎ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement