নিজের নাবালিকা মেয়েকে টানা ১০ বছর ধরে ধর্ষণ, বর্বর পিতাকে ২২ বছরের জেল
নিজের জন্মদাত্রী নাবালিকা কন্যাকে টানা এক দশক ধরে যৌন নির্যাতন ও ১৪ বার ধর্ষণের দায়ে এক ৪৮ বছর বয়সী ব্যক্তিকে ২২ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল হংকংয়ের হাইকোর্ট।
নিজের জন্মদাত্রী নাবালিকা কন্যাকে টানা এক দশক ধরে যৌন নির্যাতন ও ১৪ বার ধর্ষণের দায়ে এক ৪৮ বছর বয়সী ব্যক্তিকে ২২ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল হংকংয়ের হাইকোর্ট। মামলাটি চলাকালীন বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তকে ভৎসনা করেন এবং জানান, নিজের মেয়েকে স্রেফ একটি 'যৌন খেলনা' হিসেবে ব্যবহার করেছে এই নির্দয় পিতা।
এক দশক ধরে চলা নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বর্বরতার সূচনা হয়েছিল ২০১৪ সালে। তখন নির্যাতিতার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। প্রথমে শেনঝেনের একটি বাড়িতে এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে পরিবারটি হংকংয়ের ইউয়েন লং এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও চলতে থাকে এই অত্যাচার।
পরবর্তীতে নতুন বাড়িতে নির্যাতিতার নিজস্ব ঘর থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত রাতে চুপিচুপি সেই ঘরে ঢুকে নির্যাতন চালাত। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর মেয়েকে গর্ভনিরোধক ওষুধ খেতে বাধ্য করা হতো। বাধা দিলে অভিযুক্ত তাকে হুমকি দিয়ে বলত, "যেহেতু তোকে জন্ম আমি দিয়েছি, তাই তোকে বাঁচিয়ে রাখা বা মেরে ফেলার অধিকারও আমার আছে।"
প্রমাণ সংগ্রহ ও পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া
বাবার ভয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ২৩ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর ওই তরুণী অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ দায়েরের আগে তিনি নিজের শরীরে নির্যাতনের দাগের ছবি তুলে রাখেন এবং মোবাইলে অডিও রেকর্ড করে শক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও মন্তব্য
অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে ১৪টি ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধ স্বীকার করে নেয়। তবে সাইকোলজিক্যাল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাইকোর্টের বিচারক এরিক কোওক টুং-মিং জানান, অভিযুক্তের মনে অনুশোচনার বিন্দুমাত্র লেশ নেই। বিচারক বলেন, "১৫ বা ২২ বছরের কারাদণ্ডও ওই তরুণীর ওপর হওয়া মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার ধুয়ে মুছে সাফ করে দিতে পারবে না।" বিচারক স্পষ্ট ভাষায় জানান, পিতৃত্বের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার কঠোরতম শাস্তি হওয়া আবশ্যক।