৩ প্রেমিকাকে জোর করে দেহব্যবসা নামানো ও আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল, ৫ বছরের জেল
তিন জন প্রেমিকাকে ব্ল্যাকমেল, শারীরিক নির্যাতনের হুমকি এবং মাদকাসক্ত করে জোরপূর্বক যৌন পেশায় বাধ্য করার অপরাধে নেদারল্যান্ডসের এক যুবককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।
তিন জন প্রেমিকাকে ব্ল্যাকমেল, শারীরিক নির্যাতনের হুমকি এবং মাদকাসক্ত করে জোরপূর্বক যৌন পেশায় বাধ্য করার অপরাধে নেদারল্যান্ডসের এক যুবককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। গ্লোনিংগেনের নর্ড-নেদারল্যান্ডস জেলা আদালত ৩৫ বছর বয়সী উইনসচোটেন (Winschoten)-এর বাসিন্দা ওই যুবককে
আদালতের রায় ও সাজার বিস্তারিত
আদালত জানায়, ২০২০ সালের মে মাস থেকে ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তিনটি ভিন্ন সময়ে তার তিন প্রেমিকার উপর এই নির্যাতন চালিয়েছিল। তাদেরকে যৌন ক্রিয়ার ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হতো, হিংসাত্মক আচরণের হুমকি দেওয়া হতো এবং 'GHB' নামক বিপজ্জনক মাদকে আসক্ত করে গ্রাহকদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হতো। সেই সঙ্গে তাদের উপার্জিত সমস্ত অর্থ অভিযুক্ত নিজেই আত্মসাৎ করত।
৫ বছরের কারাদণ্ড
বিচারের পর আদালত অভিযুক্তকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও মানসিক চিকিৎসার জন্য শর্তসাপেক্ষ 'TBS' চিকিৎসা ব্যবস্থা ও 'Article 38z'-এর অধীনে দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি কোকেন পাচার এবং বকেয়া টাকা না দেওয়ায় এক ক্রেতাকে খুনের হুমকি দেওয়ার অপরাধেও সে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
যেভাবে শিকার বানানো হতো মহিলাদের
সরকারি আইনজীবীর মতে, অভিযুক্ত যুবক খুব হিসেবি ও নিষ্ঠুর উপায়ে নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিত। যে নারীরা জীবনে কোনো আশ্রয় বা সঙ্গী খুঁজতেন, তাদেরকেই সে লক্ষ্য বানাত। প্রথমে মিষ্টি কথায় বিশ্বাস অর্জন করার পর ধীরে ধীরে তাদের কঠিন মাদকে আসক্ত করে তুলত। মাদকাসক্তিকে কাজে লাগিয়ে সে নারীদের পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসত এবং তাদের উপার্জনে নিজের বিলাসী জীবন ও বিকৃত যৌন চাহিদা মেটাত।
আইনজীবীরা জানান, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফোনের মাধ্যমে সে মহিলাদের ওপর নজরদারি চালাত। এমনকি এক নারীর ব্যাংক কার্ড ও পিন কোডও তার দখলে ছিল। আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত সে নারীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাত।
ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
আদালত এই তিন ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছে, যারা সমস্ত ভয় কাটিয়ে নিজেদের বক্তব্য আদালতে পেশ করেছেন। আদালত অভিযুক্তকে নির্দেশ দিয়েছে তিন ভুক্তভোগীকে যথাক্রমে ২৪,৫০০ ইউরো, ২০,০০০ ইউরো এবং ২০,০০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ ও নির্দিষ্ট সুদ প্রদান করতে।