Dubai Airport: আর লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ! দুবাই বিমানবন্দরে চালু বড় নিয়ম, কাজ শেষ মাত্র ১৫ সেকেন্ডে
বিশ্বমানের বিমান পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল দুবাই বিমানবন্দর। লম্বা লাইনে অপেক্ষা এবং পাসপোর্টের ধরাবাঁধা কাউন্টারের দিন এবার অতীত। যাত্রীদের সময় বাঁচাতে এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো সম্পূর্ণ নতুন মোবাইল ইমিগ্রেশন পরিষেবা 'ক্লিক অ্যান্ড ট্রাভেল' (Click and Travel)।
Dubai Airport: বিশ্বমানের বিমান পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল দুবাই বিমানবন্দর। লম্বা লাইনে অপেক্ষা এবং পাসপোর্টের ধরাবাঁধা কাউন্টারের দিন এবার অতীত। যাত্রীদের সময় বাঁচাতে এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো সম্পূর্ণ নতুন মোবাইল ইমিগ্রেশন পরিষেবা 'ক্লিক অ্যান্ড ট্রাভেল' (Click and Travel)। এই পরিষেবার মাধ্যমে এবার থেকে নিজস্ব জায়গায় দাঁড়িয়েই মাত্র ১২ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করা যাবে পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ। আধুনিক বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি এবং হ্যান্ডহেল্ড টার্মিনালের মেলবন্ধনে চালু হওয়া এই পরিষেবা বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন আনল।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই আধুনিক সিস্টেমে যাত্রীদের আর নির্দ্দিষ্ট কোনো কাউন্টারে গিয়ে লাইন দিতে হবে না।
হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস: বিমানবন্দরে কর্মরত ইমিগ্রেশন আধিকারিকদের হাতে থাকবে বিশেষ এক ধরনের মোবাইল বা হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস। তাঁরা যাত্রীদের কাছে গিয়ে সরাসরি এই ডিভাইসের সাহায্যে কাজ সম্পন্ন করবেন।
বায়োমেট্রিক ও ফেস রিকগনিশন: এই ডিভাইসে রয়েছে উন্নত ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ) এবং ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট রিডিং প্রযুক্তি।
দ্রুত তথ্য যাচাই: ডিভাইসটি সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় চোখের পলকে পাসপোর্ট যাচাইয়ের কাজ শেষ হবে। পুরো প্রক্রিয়াতে সময় লাগবে মাত্র ১২ থেকে ১৫ সেকেন্ড।
দেখুন খবরটি
কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা
'ক্লিক অ্যান্ড ট্রাভেল' পরিষেবাটি দেশের অভ্যন্তরীণ বাসিন্দা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যটক, সবার জন্যই উন্মুক্ত করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) নাগরিক, সেখানকার বাসিন্দা, জিসিসি (GCC) দেশগুলির নাগরিক এবং দুবাই ভ্রমণকারী যেকোনো বিদেশি পর্যটক এই সুবিধা পাবেন।
বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ('People of Determination') যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক হতে চলেছে। তাঁদের আর কোথাও হেঁটে যেতে হবে না; আধিকারিকরা নিজেরাই তাঁদের কাছে পৌঁছে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। ইমিগ্রেশন শেষে প্রস্থানকারী যাত্রীরা সরাসরি সিকিউরিটি চেকিংয়ে এবং আগমনকারী যাত্রীরা সোজা কাস্টমস জোনে চলে যেতে পারবেন।
পরীক্ষামূলক প্রয়োগ থেকে সাফল্য
দুবাই এয়ারপোর্টস এবং এমিরেটস (Emirates)-এর যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা এই সিস্টেমটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুবাই টার্মিনাল ৩-এ প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল পরিবারগুলির ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০২৬ সালের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় সমস্ত টার্মিনাল ও সব ধরনের যাত্রীদের জন্য এর পরিধি বাড়ানো হয়। পরীক্ষামূলক পর্বে রেকর্ড ৩১,৩৭৩ জন যাত্রী সফলভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই সুবিধা উপভোগ করেন। সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মোবাইল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাণিজ্যিক সূচনা করা হলো। দুবাইকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'স্মার্ট সিটি' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক বড় মাইলফলক।