Donald Trump: ইরানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র অ্যাখ্যা ট্রাম্পের, শিগগিরই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারি ওয়াশিংটনের
ইরানকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র (Failed Country) হিসেবে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
Donald Trump: ইরানকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র (Failed Country) হিসেবে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত সামরিক সংঘাত এবং স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার চরম উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, দেশটি বর্তমানে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এবং তাদের সরকার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেতন পর্যন্ত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আভাস তিনি দেননি।
ইরানের অর্থনৈতিক সংকট তুলে ধরে ক্ষোভ
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, “ইরান একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ব্যর্থ রাষ্ট্র। তাদের কোনো অর্থনীতি নেই, মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৩০০ শতাংশে। তাদের হাতে কোনো টাকা নেই, এমনকি তারা নিজেদের সৈন্যদেরও বেতন দিতে পারছে না। আমরা খুব শিগগিরই ইরানের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।” তবে ট্রাম্পের দাবি করা ৩০০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির তথ্যটি আন্তর্জাতিক কোনো নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপটি ঠিক কবে বা কী হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার আবহ
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি রাখা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়, যা পুরো অঞ্চলে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রেখেছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধও আরোপ করেছে। অন্যদিকে স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে, যা বিশ্বের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রধান পথ। সম্প্রতি সেখানে বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামরিক পদক্ষেপের জল্পনা
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে মঙ্গলবারের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক কৌশল ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ফের চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত তরল ও সংবেদনশীল। ওয়াশিংটন ইরানকে কাবু করতে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে নাকি নতুন সামরিক অভিযানের পথে হাঁটবে, তা এখন দেখার বিষয়।