দুষ্কৃতীরা ভোট লুঠ করতে বুথ থেকে ছিনতাই করেছিল ব্যালট বাক্স। সেই বাক্সই নর্দমা থেকে তুলে আনলেন রাজ্য পুলিশের এক কর্মী। বাক্স তুলে আনতেই গণতন্ত্রের মতই কালো জল বেড়িয়ে আসতে থাকে ব্যালট বাক্স থেকে।
গণতন্ত্রের উৎসব বদলে গেল রক্তের হোলিতে। এখনও পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে শাসক-বিরোধী মিলিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে পঞ্চায়েত হিংসায়। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলায় পঞ্চায়েতে বলির সংখ্যা গিয়ে ঠেকল ৩৪-এ।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে সবথেকে বেশি রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক কর্মীরা। তারপরেও হিংসা বন্ধ হওয়ার কোন লক্ষণ নেই। দিনে দুপুরে হাতে দেশী বোম হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক যুবক। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ল সেই ছবি। দেখুন-
সকাল থেকেই উত্তপ্ত মালদহ। মাঝেমধ্যেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষের খবর আসছে সামনে।মালদহের গোপালপুর পঞ্চায়েতে বালুটোলায় কংগ্রেস এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বোমা পড়ল মুহুর্মুহু। দেখুন সেই ছবি-
দিনহাটার ইন্দ্রেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্ধ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোট প্রক্রিয়া।ঘটনাস্থলে দেখা যায় ব্যালট বক্সের ভিতরে জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। কারা জল ঢেলেছেন সেই বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দেখুন ছবি-
শনিবার সকাল থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে নানা জায়গায় থেকে নানা অভিযোগ এসেছে।কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সকালে কোচবিহারে এক বেনজির ছবি এল সামনে। ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বক্স তুলে চম্পট দিলেন অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক। কোচবিহারের মাথাভাঙায় যে দৃশ্য দেখা গিয়েছে, তা বোধহয় হার মানাবে কোনও আন্তর্জাতিক মানের দৌড় প্রতিযোগিতাকেও। দেখুন সেই ছবি-
কোচবিহারের দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের ভাগ্নিরপার্ট ওয়ান এলাকায় গুলিবিদ্ধ ২ বিজেপি কর্মী। রাধিকা বর্মন ও চিরঞ্জিত কার্জি নামে ২ কর্মী ভোট দিতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে তৃণমুল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর মালিওর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ। চলল গুলি। গুলিবিদ্ধ একজন।
তৃণমূল-নির্দল সংঘর্ষ। মাথা ফাটল নির্দল কর্মীর। হাত ভাঙল টিএমসি কর্মীর। নয়াগ্ৰাম ব্লকের ৪ নম্বর মলম অঞ্চলের ১৭৬ নম্বর বুথের ঘটনা।
মালদায় বোমা-গুলি চলছেই। এবার বোমাবাজি রতুয়ার চাঁদমনি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের খোঁচ খামার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভোট দিতে যাওয়ায় সময় কংগ্রেস নেতা নাজির আলির নেতৃত্বে ভোটারদের উপরে হামলার অভিযোগ। জখম এক যুবক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জিরানগাছায় বল ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা ফেটে আহত দুই শিশু।
কানহাইয়া-করিম বিবাদের জেরে সংঘর্ষ উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে। গুলিবিদ্ধ এক তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ করিমের অনুগামীদের বিরুদ্ধে।
মালদার মানিকচকে নিহত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। গুরুতর জখম ৮ জন।
সকাল থেকেই মাঝেমধ্যে উত্তেজিত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকা।অশান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাস্তায় দেখা গেছে বোমার চিহ্ন। ভাঙড়ের ছয়ানিতে পড়ে থাকা বোমকে বল ভেবে খেলতে গিয়ে আহত হল দুই শিশু। একজনের বয়স ৭ বছর ও আর একজনের বয়স ৪। দুই শিশুকে জিরানগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুথের ভিতরে ছাপ্পার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলেএসেছিলেন নির্দল প্রার্থী অরিজিৎ দাস। কিন্তু দুষ্কৃতীদের হাতে প্রথমে নিগৃহীত হওয়ার পর তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বলিউডি ধাঁচে একেবারে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘুরতে দেখা যায় এক যুবককে। কোনও ক্রমে পালিয়ে বাঁচেন অরিজিৎ দাস। ভোটের দিন কার্যত নজিরবিহীন ছবি দেখা গেল। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ব্যাপক উত্তেজনা ঘটনাস্থলে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট দিতে নারাজ ভোটাররা। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে শনিবার সকালে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। এক মহিলা হাতে বিষের কৌটো নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। দেখুন সেই ভিডিও-
পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগণার পীরগাছা। সংঘর্ষে নিহত ১ নির্দল প্রার্থীর বুথ এজেন্ট। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেছে গ্রামবাসীরা।ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে তৃণমূল দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে।
মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত গ্রাম বাংলায় অশান্তি অব্যাহত। ভোটের দিন সাত সকালে উত্তপ্ত কোচবিহার। ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটেরহাট ৩৮ নম্বর বুথের মধ্যেই চলল বোমাবাজি এবং গোলাগুলি। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মাধব বিশ্বাস নামে এক বিজেপির পোলিং এজেন্টের। আহত হয়েছে অনেকেই। বোমার আঘাতে চোট পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী মায়া ভৌমিক সরকার। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে আহতদের।
ভোট বুথে বোমাবাজি করার অভিযোগ তৃণমূলের দিকে তুলেছেন আহত বিজেপি পার্থী। মায়ার কথায়, 'তৃণমূলের গুন্ডারা আমার এজেন্টকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়েছেন। আমার উপরও আঘাত হেনেছেন'।
নির্বাচনের রাত থেকেই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে হিংসার ঘটনা। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসে বলি হয়েছেন ৭জন। এদের মধ্যে শাসক দলের ৫ জন, বিজেপির ১ জন ও সিপিএমের এক কর্মী রয়েছেন।
আজ রায় দেবে গ্রামবাংলা। একদফাতেই হবে রাজনৈতিক দলগুলির ভাগ্য নির্ধারণ।কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিসের কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক দফাতেই ভোট গ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হবে।২০ টি জেলায় ত্রিস্তরীয় নির্বাচন হচ্ছে অর্থাৎ ভোট হবে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে। শুধুমাত্র দার্জিলিং ও কালিম্পং-এ হবে দ্বিস্তরীয় নির্বাচন, সেখানে নেই জেলা পরিষদ। সব মিলিয়ে রাজ্যে মোট ৭৩,৮৮৭টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের ৭৩ হাজার ৮৮৭টি বুথের মধ্যে ৯০১৩ টি আসনে ভোট হবে না। অর্থাৎ ওই ১২ শতাংশ আসনে কোনও একটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়ে গিয়েছে। বাকি বুথগুলিতে ভোট গ্রহণের জন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে
মনোনয়ন পর্ব থেকে উঠেছিল সন্ত্রাসের অভিযোগ। ভোটের দিন পর্যন্ত অশান্তি অব্যাহত। আদালতের নির্দেশে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবু পরপর পড়ছে লাশ।