Ulta Ratha Yatra 2026: বৃহস্পতি না শুক্রবার? উল্টো রথের দিন ও তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি, কী বলছে পঞ্জিকা?

Ulta Ratha Yatra 2026: রথযাত্রার আনন্দ যেন সম্পূর্ণ হয় উল্টো রথের মধ্য দিয়েই। ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার মাসির বাড়ি থেকে শ্রীমন্দিরে প্রত্যাবর্তনের দিনই হল উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা। পুরীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ, কলকাতা, মায়াপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় এই দিনটি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়।

Jagannath Dev's Rath Yatra (Photo Credit: X)

Ulta Ratha Yatra 2026: রথযাত্রার আনন্দ যেন সম্পূর্ণ হয় উল্টো রথের মধ্য দিয়েই। ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার মাসির বাড়ি থেকে শ্রীমন্দিরে প্রত্যাবর্তনের দিনই হল উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা। পুরীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ, কলকাতা, মায়াপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় এই দিনটি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়। রথযাত্রার মতোই উল্টো রথের দিনও ভক্তদের ঢল নামে মন্দিরে। অনেকের বিশ্বাস, এই দিনে ভক্তিভরে রথের দড়ি স্পর্শ বা টানলে জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।

কবে উল্টো রথ ২০২৬?

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা পালিত হবে ২৪ জুলাই, শুক্রবার। রথযাত্রার আট দিন পর এই বিশেষ উৎসব পালিত হয়। এই দিনেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা গুণ্ডিচা মন্দির (যা ভক্তদের কাছে 'মাসির বাড়ি' নামে পরিচিত) থেকে আবার শ্রীমন্দিরে ফিরে আসেন।

উল্টো রথের শুভ সময়

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতেই পালিত হয় বাহুড়া যাত্রা। মন্দিরভেদে রথ টানার সময় আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণত সকাল থেকেই পূজা, আরতি, কীর্তন এবং রথযাত্রার আয়োজন শুরু হয়। ভক্তরা সকাল থেকেই মন্দিরে উপস্থিত হয়ে দর্শন ও রথ টানায় অংশ নেন।

কেন পালিত হয় উল্টো রথ?

পুরাণ অনুযায়ী, রথযাত্রার দিন ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রা শ্রীমন্দির ছেড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করার পর তাঁরা আবার নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তনের যাত্রাকেই বলা হয় উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা। শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এই যাত্রা মানুষের জীবনে ফিরে আসা, নতুন সূচনা এবং শুভ শক্তির প্রতীক বলেও মনে করা হয়। তাই রথযাত্রার মতো উল্টো রথও সমান গুরুত্ব বহন করে।

উল্টো রথের ধর্মীয় গুরুত্ব

শাস্ত্র মতে, উল্টো রথের দিন ভগবান জগন্নাথের দর্শন অত্যন্ত শুভ। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে আন্তরিক ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। অনেকেই এদিন উপবাস পালন করেন, নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন এবং বিশেষ পূজা-অর্চনা করেন।

রথের দড়ি টানারও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, রথ টানার মাধ্যমে ভগবানের সেবায় অংশ নেওয়ার সুযোগ মেলে এবং সংসারের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

বাংলায় উল্টো রথের ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গে উল্টো রথের উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হুগলির মাহেশের রথযাত্রা দেশের প্রাচীনতম রথ উৎসবগুলির অন্যতম। উল্টো রথের দিনও সেখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। এছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দির, ইসকন, মায়াপুর, বেলুড়-সহ একাধিক ধর্মীয় কেন্দ্রে বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ভক্তদের জন্য বিশেষ বার্তা

উল্টো রথ শুধুই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভের আশায় অনেকে রথের দড়ি টানেন, আবার কেউ মন্দিরে গিয়ে শুধু একবার দর্শন করেই নিজেকে ধন্য মনে করেন।

২০২৬ সালের ২৪ জুলাই, শুক্রবার পালিত হতে চলা উল্টো রথও ভক্তদের কাছে তেমনই এক পবিত্র ও আনন্দময় দিন হতে চলেছে। তাই এই বিশেষ দিনে যদি আপনার এলাকাতেও রথযাত্রার আয়োজন থাকে, তবে অবশ্যই পরিবারের সঙ্গে সেই উৎসবে শামিল হতে পারেন। ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এই উৎসব বাংলার সংস্কৃতিরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement