ক্যামাক স্ট্রিট রণক্ষেত্র: সিঁড়িতে পড়ে জখম ডেরেক ও’ব্রায়েন, বেআইনি বিলবোর্ড সরানো ঘিরে টিএমসি-কেএমসি সংঘর্ষ, দেখুন ভিডিও
কলকাতার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে বেআইনি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা।
কলকাতার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে বেআইনি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। কলকাতা পুরসভা (KMC) ও পুলিশের অভিযান ঘিরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা, সমর্থক ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তৃণমূলের ছাত্র সমাবেশের ঠিক আগের দিন আয়োজিত এই বিতর্কিত অভিযানের সময় কার্যালয়ের সিঁড়িতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হন তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন।
ঘটনার সূত্রপাত ও রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ের ছাদ থেকে একটি বেআইনি বলে দাবি করা টিএমসি বিলবোর্ড সরাতে পৌঁছান পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিক ও পার্ক স্ট্রিট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ উপস্থিত অন্যান্য দলীয় নেতারা আধিকারিকদের ছাদে যাওয়ার পথে বাধা দেন। অভিষেক অভিযোগ করেন, পুরসভার আনা নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট মেমো নম্বর, তারিখ, অফিসিয়াল সিল কিংবা বিতর্কিত বিলবোর্ডের কোনো ছবি যুক্ত ছিল না।
দেখুন ভিডিও
আধিকারিকরা ছাদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে কার্যালয়ের সিঁড়িতে তৃণমূল সমর্থক ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ধস্তাধস্তির জেরে সিঁড়িতে আছাড় খেয়ে পড়েন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। পরে ডেরেক সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, "১৫০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী অবৈধভাবে আমাদের অফিসে ঢোকে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের গায়ে হাত তোলে। আমাদের ১০ থেকে ১৫ জন দলীয় কর্মীকে অন্যায্যভাবে আটকে রাখা হয়েছে।"
পুলিশের ভূমিকা ও অভিষেকের তোপ
ঘটনার সময় ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "ছাদে বিলবোর্ড থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো সঠিক নথিপত্র ছাড়াই জোর করে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেছে। এই অভিযানে আমাদের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন।"
অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, ক্যামাক স্ট্রিটে বিজেপির চারশোর বেশি বিলবোর্ড বেআইনিভাবে ঝুললেও সেগুলির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, অথচ রাজ্য প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কেবল তৃণমূলের কার্যালয়কেই নিশানা করছে। এই সম্পূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পাল্টা দাবি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে তৃণমূলের এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। লালবাজার ও পার্ক স্ট্রিট থানা সূত্রে দাবি করা হয়, সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীদের ওপর তৃণমূল সমর্থকরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্ব উল্টে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার তোপ দেগেছে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের বড় কর্মসূচির আগে ক্যামাক স্ট্রিটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা চরম আকার ধারণ করেছে।