SRFTI Clash: যাদবপুরের পর এ বার এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে যুদ্ধ! রক্তাক্ত পড়ুয়া-অধ্যাপক, রাতভর তুলকালাম

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজা স্মৃতির মধ্যেই এ বার রণক্ষেত্রের রূপ নিল কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)। সৌজন্যে, সেই ‘বহিরাগত’ বনাম পড়ুয়া সংঘাত।

SRFTI clash. (Photo Credits:X)

SRFTI Clash: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজা স্মৃতির মধ্যেই এ বার রণক্ষেত্রের রূপ নিল কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)। সৌজন্যে, সেই ‘বহিরাগত’ বনাম পড়ুয়া সংঘাত। রবিবার সকালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক শাখা সংগঠনের সভাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। বচসা থেকে হাতাহাতি, তা থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ— বাদ রইল না কিছুই। রড, লাঠি, পাথর নিয়ে পড়ুয়াদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। রেহাই পেলেন না অধ্যাপকেরাও। অন্তত ১০ জন পড়ুয়া জখম হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের চোট গুরুতর। পরিস্থিতি সামাল দিতে গভীর রাতে খোদ দিল্লি থেকে উড়ে এসে সোজা ক্যাম্পাসে পৌঁছতে হল নতুন উপাচার্যকে।

কোথা থেকে গণ্ডগোলের শুরু

কোথা থেকে গণ্ডগোলের সূত্রপাত? রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে একটি সভার আয়োজন করেছিল আরএসএস-পন্থী সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (এবিজিপি)। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রসিদ কেটে, অনুমতি নিয়েই সভা করছিল তারা। কিন্তু কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বেসরকারি সংগঠনের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানান পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। অভিযোগ, এর পরেই পড়ুয়াদের উপর চড়াও হন ওই সংগঠনের সদস্যরা।

দেখুন ভিডিও

কী বক্তব্য পড়ুয়াদের

পড়ুয়াদের বক্তব্য, "প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জায়গায় বাইরের লোক এনে সভা হচ্ছিল। আমরা শান্তিপূ্র্ণ ভাবে পোস্টার হাতে প্রতিবাদ করছিলাম। তখনই আমাদের ‘দেশদ্রোহী’, ‘পাকিস্তানি’ বলে গালিগালাজ শুরু হয়। তার পর শুরু হয় বেধড়ক মার।" ছাত্র সংসদের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে আরও মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রাণ বাঁচাতে অনেক পড়ুয়া লাইব্রেরিতে ঢুকে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও হামলা চালানো হয়। লাইব্রেরিয়ানকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। মারমুখী ভিড়ের হাত থেকে পড়ুয়াদের বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন কয়েক জন অধ্যাপকও। চিত্রপরিচালক তথা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর ক্ষোভ, "যে ভাবেই হোক না কেন, পড়ুয়াদের ওদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ঢুকে এভাবে মারধর করা চরম উদ্বেগজনক।"

দেখুন ভিডিও

পাল্টা সুর এবিজিপি-র

পাল্টা সুর চড়িয়েছে এবিজিপি-ও। তাদের রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায়ের দাবি, "আমরা ক্রেতাসুরক্ষা সচেতনতা নিয়ে সভা করছিলাম। কিন্তু এক দল পড়ুয়া এসে বিনা প্ররোচনায় গণ্ডগোল পাকায়। ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। আমাদের লোকজনকে মারধর করা হয়েছে।"

দেখুন ভিডিও

রাতেও থমথম পরিস্থিতি

দুপুরের এই ঝামেলা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত থমথমে থাকে বাইপাস সংলগ্ন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢোকে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু গেটের বাইরে তখন জমাট বেঁধেছে এবিজিপি-র কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। দু’পক্ষেরই শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। সন্ধ্যায় আহতদের নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালে রওনা দিতে গেলে সেটিকেও আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের ভূমিকা

পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ভ্যানে তুললে, সেই গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। তাঁদের সাফ দাবি ছিল— লিখিত অভিযোগ না-মেনে গাড়ি ছাড়া যাবে না। শেষমেশ পুলিশ অফিসাররা নথিতে সই করার পর রাত ৮টা নাগাদ মুক্ত হয় পুলিশভ্যান।

নয়া উপাচার্য

এসআরএফটিআই-এর নতুন উপাচার্যের ১ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবারের এই তুলকালামের খবর পৌঁছতেই তিনি তড়িঘড়ি দিল্লির বিমান ধরেন। রাতে কলকাতায় নেমেই সোজা চলে যান বাইপাসের ওই ক্যাম্পাসে। আপাতত পুলিশি প্রহরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, ক্যাম্পাসের অন্দরে এখনও চাপা আতঙ্ক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Share Now
Advertisement