AI ‘Nudify’ Apps: AI ‘নুডিফাই’ অ্যাপ যেভাবে কাজ করে এবং এটি রুখতে অ্যাপল ও গুগলের পদক্ষেপ

সাধারণ ছবি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর এই ধরনের অপরাধের মূলে রয়েছে তথাকথিত "নুডিফাই" (Nudify) অ্যাপগুলো।

Image used for representational purpose (Photo Credits: Wikimedia Commons)

AI ‘Nudify’ Apps: সাধারণ ছবি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর এই ধরনের অপরাধের মূলে রয়েছে তথাকথিত "নুডিফাই" (Nudify) অ্যাপগুলো। সিবিএস নিউজের (CBS News) একটি অনুসন্ধানে অ্যাপল এবং গুগলের অ্যাপ স্টোরে এমন অন্তত ১৯টি অ্যাপের সন্ধান মিলেছে, যা মুহূর্তে যেকোনো সাধারণ ছবিকে আপত্তিকর বা নগ্ন ছবিতে রূপান্তর করতে পারে।

যেভাবে কাজ করে এই অ্যাপগুলো

এই অ্যাপগুলোর কার্যপ্রণালী অত্যন্ত সহজ ও মারাত্মক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পুরোপুরি পোশাক পরিহিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের কয়েকটি ছবি প্রায় ৭০টি ভিন্ন ভিন্ন এআই ফটো এডিটিং অ্যাপে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি অ্যাপ থেকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

দেখুন ভিডিও

কিছু অ্যাপে ছবি আপলোড করে পোশাকের অংশটুকু মার্ক বা চিহ্নিত করে কেবল "মেক নুড" (Make nude)-এর মতো সাধারণ কমান্ড দিলেই ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত নগ্ন ছবিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। কোনো প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন ছাড়াই সাধারণ ব্যবহারকারীরা এটি করতে পারছেন। যা আরও উদ্বেগের বিষয় তা হলো, এগুলোর কয়েকটি অ্যাপে বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে কিশোর-কিশোরীরাও সহজেই এগুলো ডাউনলোড করতে পারছে।

অ্যাপল ও গুগলের পদক্ষেপ

সিবিএস নিউজ বিষয়গুলো সামনে আনার পর টেক জায়ান্ট অ্যাপল ও গুগল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

অ্যাপলের প্রতিক্রিয়া: অ্যাপল জানিয়েছে, তারা অ্যাপ স্টোর থেকে এ ধরনের অ্যাপস সরিয়ে নিয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। অ্যাপলের নীতিমালায় পর্নোগ্রাফিক বা যৌন বিষয়ক কনটেন্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

গুগলের প্রতিক্রিয়া: প্লেই স্টোর নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে গুগলও বেশ কয়েকটি ক্ষতিকর অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে এবং শত শত অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। গুগল জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্ট সনাক্ত করতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করছে।

তবুও কেন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা?

অ্যাপগুলো সরিয়ে ফেলা সত্ত্বেও শিশু অধিকার কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা একে যথেষ্ট মনে করছেন না। 'ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন'-এর প্রধান নির্বাহী মিচেল ডেলাউন জানান, টেক কোম্পানিগুলোর এই পদক্ষেপ মূলত ঘটনার পর নেওয়া প্রতিক্রিয়া (Reactive)। অ্যাপগুলো প্রকাশের আগেই কঠোরভাবে যাচাই (Proactive vetting) করা উচিত।

কমন্স সেন্স মিডিয়ার একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে:

  •  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক কিশোর-কিশোরী এআই দিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফি দেখেছে।
  • চারজনের মধ্যে একজন জানিয়েছে, তৈরি করা এসব ভুয়া ছবিতে তারা নিজেরা বা তাদের পরিচিত কেউ শিকার হয়েছে।
  • প্রতি পাঁচজনে একজন স্বীকার করেছে যে তারা নিজেরাও এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করেছে।

    আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতে, এই প্রযুক্তি অপরাধের পথকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দূরবর্তী কোনো সাইবার অপরাধী নয়, বরং সহপাঠীরাই নিজেদের মধ্যে এসব ছবি তৈরি করে জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

Share Now
Advertisement


Advertisement
Advertisement
Share Now
Advertisement