Hatia UNO Viral Video Part 1, 2, 3: হাতিয়া ইউএনও ভাইরাল ভিডিও, ডাউনলোড লিঙ্কের আড়ালে বড় স্ক্যামের ফাঁদ, চরম বিপদে সাধারণ মানুষ!
নোয়াখালীর হাতিয়ার প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিনের একটি বিতর্কিত সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে এক বিপজ্জনক সাইবার স্ক্যাম শুরু হয়েছে।
Hatia UNO Viral Video Part 1, 2, 3: নোয়াখালীর হাতিয়ার প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিনের একটি বিতর্কিত সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইন্টারনেটে এক বিপজ্জনক সাইবার স্ক্যাম শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে ‘হাতিয়া ইউএনও ভাইরাল ভিডিও পার্ট ১, ২, ৩’ কিংবা ‘১৯ মিনিটের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও’ দেখার প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষতিকারক লিঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও দীর্ঘ বা অতিরিক্ত ভিডিওর অস্তিত্বই নেই। স্ক্যামাররা কেবল মানুষের কৌতূহলকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও আর্থিক জালিয়াতির নতুন ফাঁদ পেতেছে।
‘পার্ট ২ ও ৩’ ডাউনলোড লিঙ্কের আড়ালে কী ঘটছে?
প্রশাসনের তদন্তাধীন মূল ঘটনায় যে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়েছিল, সেটি ছিল মাত্র ২৯ সেকেন্ডের। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘পার্ট ২’ কিংবা ‘পার্ট ৩’ দেখার লোভ দেখিয়ে একাধিক ফিশিং লিঙ্ক তৈরি করা হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যখনই কোনও ব্যবহারকারী কৌতূহলবশত এই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করছেন, তখনই তাঁদের ফোন বা ল্যাপটপে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ক্ষতিকারক এপিকে (.apk) বা জিপ (.zip) ফাইল ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে। এই ম্যালওয়্যার ট্রোজান বা স্পাইওয়্যার ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনের গ্যালারি, ব্যক্তিগত মেসেজ, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ভাবে ব্যাংকিং তথ্য ও ওটিপি (OTP) হ্যাকারদের সার্ভারে পৌঁছে দিচ্ছে।
ফিশিং ও অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের মারাত্মক ঝুঁকি
কেবল ফাইল ডাউনলোডই নয়, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্ষতিকর লিঙ্কগুলি ব্যবহারকারীকে হুবহু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টেলিগ্রামের মতো দেখতে ভুয়া লগইন পেজে পুনর্নির্দেশিত (Redirect) করছে। সেখানে ভিডিওটি চালানোর আগে ‘বয়স যাচাইকরণ’ বা ‘লগইন প্রয়োজন’ বলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছে। সরল বিশ্বাসে ব্যবহারকারীরা তথ্য প্রদান করার সাথে সাথেই মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে সাইবার অপরাধীদের হাতে। পরবর্তীতে সেই অপহৃত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অন্যান্য পরিচিতদের কাছেও এই ভুয়ো লিঙ্ক ও মেসেজ ছড়ানো হচ্ছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ইউএনও-র অবস্থান
ভিডিওটি বিতর্ক তৈরির পরপরই হাতিয়ার তৎকালীন ইউএনও মোঃ আলাউদ্দিনকে ওএসডি (Officer on Special Duty) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিনি এই ভিডিওটিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে বানানো ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার বলে দাবি করে আসছেন। বর্তমানে ভিডিওটির কারিগরি সত্যতা ও ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাই করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
সুরক্ষায় সাইবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন:
এ ধরনের মুখরোচক বা বিতর্কিত ভিডিওর তথাকথিত ‘পার্ট ১, ২, ৩’ বা ‘ফুল এইচডি ডাউনলোড’ লিঙ্কে ভুলেও ক্লিক করবেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কোনও উৎস থেকে আসা জিপ (.zip) বা এপিকে (.apk) ফাইল ফোনে ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।
কোনও থার্ড-পার্টি লিঙ্কে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যাংকিং অ্যাপের পাসওয়ার্ড দেবেন না।
অনাকাঙ্ক্ষিত লিঙ্কে ক্লিক হয়ে গেলে অবিলম্বে ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান করুন এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।