Lionel Messi Retirement: আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির, আর্জেন্টিনা জার্সিতে এমএল ১০-এর বড় ২০টি রেকর্ড
আন্দোলিত ফুটবল বিশ্ব। অবশেষে সত্যি হলো আশঙ্কাই। আলবিসেলেস্তোর নীল-সাদা জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে।** আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি মহাতারকা।
Lionel Messi Retirement: আন্দোলিত ফুটবল বিশ্ব। অবশেষে সত্যি হলো আশঙ্কাই। আলবিসেলেস্তোর নীল-সাদা জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে।** আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি মহাতারকা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর দিন, ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা নিশ্চিত করেন তিনি।
বিদায়ী বার্তায় বিশ্বজয়ী অধিনায়ক জানান, গত ১৯ জুলাই ফাইনালের দু’দিন পর ২১ জুলাই তিনি নিজের ইস্তফাপত্র লিখে ফেলেছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর বাবার সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এই কঠিন সিদ্ধান্তকে আরও দ্রুত বাস্তবায়িত করার পথে তাঁকে চালিত করেছে। নীল-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ দু'দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্ভিস দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক আঙিনা ছাড়লেন লিও। ২০৭টি ম্যাচে ১২৫টি গোল করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবেই বুট জোড়া তুলে রাখলেন তিনি।
আবেগঘন বার্তা দিয়ে কী লিখলেন লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ২০ বছরের পথচলার স্মৃতি স্মরণ করে বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি একটি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত বার্তা প্রকাশ করেছেন:
"২১ জুলাই ফাইনালের দু’দিন পর আমি এই কথাগুলো লিখেছিলাম। আজ, আমার বাবার সাথে যা ঘটেছে তার পর, আমি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।"
"ফাইনালের পর অনেকটা সময় পার হয়েছে এবং অনেক চিন্তাভাবনা করার পর আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এই সিদ্ধান্তটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এখনও ভেতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।"
"আমি শপথ নিয়ে বলছি, আমি সর্বদা নিজের সেরাটা দিয়েছি। শুধুমাত্র শেষ কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি তখন নয়, তার আগেও। আমি এই শার্টের জন্য লড়াই করেছি এবং সবকিছু উজার করে দিয়েছি, যাতে ফুটবল দিয়ে আপনাদের আনন্দ দিতে পারি এবং আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্বিত করতে পারি।"
"সময় আর বেশি নেই এবং বিভিন্ন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। এটি এমন একটি অধ্যায় যা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসতাম, এখনও বাসি এবং চিরকাল বাসব। আমার যা দেওয়ার ছিল সব দিয়ে দিয়েছি, আর দেওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই।"
"তাছাড়া, বেশ কিছু অসাধারণ তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে যাদের এখানে থাকার যোগ্যতা রয়েছে।"
"গত ২০ বছরের এই ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। ভেতরে থেকে আপনাদের সমর্থন শোনার কথা খুব মনে পড়বে। এবার থেকে আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করব, ভালো সময়ে তো বটেই, খারাপ সময়ে আরও বেশি করে।"
"আমার পরিবারকে ধন্যবাদ সর্বদা পাশে থাকার জন্য এবং এই সুন্দর কিন্তু কঠিন যাত্রায় আমার সাথে থাকার জন্য। ধন্যবাদ প্রত্যেক কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তাদের যাদের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি অবিস্মরণীয় স্মৃতি এবং মুহূর্তগুলো সাথে নিয়ে যাচ্ছি।"
"শান্তি এবং গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সতীর্থদের সাথে মিলে এমন সব মুহূর্ত আপনাদের দিতে পেরেছি যা একসময় শুধু স্বপ্নেই দেখা যেত। আপনাদের সাথে এই সবকিছু অনুভব করাটা একটা অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। আমি আপনাদের ভালোবাসি!"
"ধন্যবাদ ঈশ্বর, আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য।"
"ভামোস আর্জেন্টিনা!"
মহাকাব্যিক ট্রফি জয় ও পরিসংখ্যান
একসময় যে দেশের জার্সিতে একের পর এক ফাইনাল হার আর জাতীয় দলের ট্রফ খরা লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে ট্র্যাজিক নায়কের রূপ দিয়েছিল, শেষভাগে এসে সেই গল্প বদলে যায় রূপকথায়। মেসির অধিনায়কত্বেই আর্জেন্টিনা জেতে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গারির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল মেসির।
ঝলকে মেসির পরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ: ২০৭টি
মোট গোল: ১২৫টি
আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক: ১১টি
এক ম্যাচে ২ গোল: ১৫ বার
এক ম্যাচে ৫ গোল: ১ বার
বিশ্বকাপে মোট গোল: ২১টি
বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে গোল: ৩৬টি
কোপা আমেরিকায় গোল: ১৪টি
সবচেয়ে বেশি গোল যার বিরুদ্ধে: বলিভিয়ার বিরুদ্ধে (১১টি)
এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সেরা পারফরম্যান্স: ২০২২ সালে ১৮টি গোল
২০১৬ সালে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৪ গোলের রেকর্ড ভেঙে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা গোলদাতা হন মেসি। পরবর্তীতে পেলে-র দক্ষিণ আমেরিকান পুরুষ ফুটবলের ৭৭ গোলের রেকর্ডকেও অনেক পেছনে ফেলে ১২৫ গোলের শিখরে পৌঁছে ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ঐতিহাসিক ২০ রেকর্ড
১. আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: ১২৫টি গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন।
২.সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা প্লেয়ার: জ্যাভিয়ার মাসচেরানোর ১৪৭ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন।
৩. সর্বাধিক অ্যাসিস্টের মালিক: ৬৫টিরও বেশি অ্যাসিস্ট করে দেশের সেরা প্লেমেকার হিসেবে শেষ করলেন।
৪. সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ:২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—মোট ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।
৫. বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ: লোথার ম্যাথিউসের ২৫ ম্যাচের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন।
৬. অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ: অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার নজির তাঁর দখলে।
৭. বিশ্বকাপে সর্বাধিক মিনিট খেলা: পাওলো মালদিনির ২,২১৭ মিনিটের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে উঠে এসেছেন।
৮. বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা: ২১টি গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপের পরেই অবস্থান করছেন।
৯. আর্জেন্টিনার সেরা বিশ্বকাপ গোলদাতা:২১ গোল করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানার।
১০. দু’বার গোল্ডেন বল জয়ী একমাত্র ফুটবলার: ২০১৪ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।
১১. টানা ৯টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল: টানা নয়টি ম্যাচে গোল করার নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছিলেন।
১২. তিনটি পৃথক দশকে বিশ্বকাপে গোল: ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনটি আলাদা দশকে গোল করা একমাত্র ফুটবলার।
১৩. সবচেয়ে বয়স্ক হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক: ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৬ বিশ্বকাপে এই নজির গড়েন।
১৪. কোপা আমেরিকায় সর্বাধিক ম্যাচ: ৩৫টিরও বেশি ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্টের ইতিহাস গড়েন।
১৫. কোপা আমেরিকার সেরা অ্যাসিস্টদাতা: টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করিয়েছেন তিনি।
১৬. টানা দু’বার কোপা জয়ী প্রথম আর্জেন্টাইন অধিনায়ক:২০২১ এবং ২০২৪ সালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন।
১৭. ২৮ বছরের ট্রফি খরার অবসান: ১৯৯৩ সালের পর ২০২১ সালে দেশকে প্রথম কোনো বড় ট্রফি উপহার দেন।
১৮. এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের অবদান: ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট ৩৩টি গোলে অবদান রেখে নজির গড়েছেন।
১৯. বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট: ১৯৬৬ সালের পর নকআউট পর্বে ১০টি অ্যাসিস্টের নজির গড়েছেন।
২০. অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়: ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ২০২২ সালে দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেন।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর এই যাত্রা ও রেকর্ড সম্ভবত আগামী বহু প্রজন্ম ধরে অধরা ও অমলিন থেকে যাবে।