Lamine Yamal Father: ইয়ামালের বাবার বয়স মেসির সমান! কে এই লামিন পিতা মুনির নাসরাউই? চিনে নিন
বিশ্ব ফুটবলে একের পর এক রূপকথা লিখে চলেছেন স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়েসের আগে ইউরো কাপ ও বিশ্বকাপ জিতে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তারকা ইয়ামাল। বার্সেলোনার জার্সি হোক বা স্পেনের জাতীয় দল, সবুজ গালিচায় ইয়ামাল নামলেই প্রতিপক্ষের রক্তচাপ বাড়ে।
Lamine Yamal Father: বিশ্ব ফুটবলে একের পর এক রূপকথা লিখে চলেছেন স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়েসের মধ্যেই ইউরো কাপ ও বিশ্বকাপ জিতে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তারকা ইয়ামাল। বার্সেলোনার জার্সি হোক বা স্পেনের জাতীয় দল, সবুজ গালিচায় ইয়ামাল নামলেই প্রতিপক্ষের রক্তচাপ বাড়ে। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের এই বিস্ময় বালকের আজকের এই চূড়ায় পৌঁছনোর নেপথ্যে যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি তাঁর বাবা, মুনির নাসরাউই (Mounir Nasraoui)। ইয়ামালের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বের প্রবল কৌতুহল তৈরি হয়েছে তাঁর বাবাকে ঘিরে। কে এই মুনির নাসরাউই? মরক্কো থেকে স্পেনে পাড়ি দেওয়া এক অভিবাসী শ্রমিকের কীভাবে আজকের এই পরিচিতি?
বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি ও মরক্কো থেকে স্পেনে আসেন
অনেক জায়গায় মুনির নাসরাউইর বয়স ৩৪ বছর বলে দাবি করা হলেও, বর্তমানে তাঁর বয়স ৪০ বছর। লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র কয়েক মাসের বড় ইয়ামালের বাবা! বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো গত বছর মুনিরের ৩৯তম জন্মদিনে একটি পোস্ট করেছিলেন, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মুনিরের জন্ম মরক্কোর উত্তরাঞ্চলের বন্দর শহর লারাচে (Larache)-তে। মাত্র ৯ বছর বয়সে নিজের মায়ের পথ ধরে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। বার্সেলোনার কাছে মাতোরো (Mataró) নামের এক সাধারণ শ্রমজীবী এলাকায় স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন তাঁরা। সংসার চালাতে ও পরিবারকে টেনে তুলতে একসময় পেইন্টার বা দেওয়াল রঙ করার কাজ সহ নানা শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে মুনিরকে।
দেখুন ছবিতে
ভাঙা পরিবার ও একচ্ছত্র পিতৃত্বের লড়াই
ইয়ামালের শৈশব একেবারেই সহজ ছিল না। লামিনের বয়স যখন মাত্র ৩ বছর, তখন মুনির এবং ইয়ামালের মা শিলা এবারার (Sheila Ebana) বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু বিচ্ছেদ হলেও ছেলের লালন-পালনে কখনো ফাঁক রাখতে দেননি মা-বাবা কেউই। গ্রানোলার্সে মায়ের কাছে থাকা আর মাতোরোতে বাবার কাছে থাকার মাঝে ভাগ হয়ে কেটেছে ইয়ামালের শৈশব। মাঠে বসে ছেলের খেলা দেখার সুযোগ কখনো হাতছাড়া করেননি মুনির। বার্সেলোনা বা স্পেন, গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে ছেলেকে নিয়ে উল্লাস করা মুনিরের অত্যন্ত চেনা একটি দৃশ্য।
দেখুন ছবিতে
প্রাণঘাতী হামলা ও তীব্র বিতর্ক
মুনিরের ব্যক্তিগত জীবন নানা ঝোড়ো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মাতোরোর একটি পার্কিং লটে তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হলে তাঁকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে শক্ত প্রাণশক্তির জোরে তিন দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, ইয়ামাল যখন তাঁর বাবার জন্মভূমি মরক্কোর হয়ে না খেলে স্পেনের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার সিদ্ধান্ত নেন, তখন মরক্কোর একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল মুনিরকে। তবে সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছেলের পাশেই শক্ত পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছেন তিনি।
“মেসিকেও ছাড়িয়ে যাবে লামিন!”
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসী মুনির বলেছিলেন, “আমার ছেলে আজ যা অর্জন করেছে, আমি জানতাম ও সেটাই করবে। ওর ওপর আমার একশো শতাংশ আস্থা ছিল। আমার বিশ্বাস, ও ফুটবল ইতিহাসে সব সীমান্ত পার করে এক দিন লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে যাবে।”
সোশ্যাল মিডিয়ার তারকা ও নতুন জীবন
ছেলের সাফল্যের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও এখন দারুণ জনপ্রিয় মুনির। ইনস্টাগ্রামে তাঁর আইডি hustle_hard_304-এ অনুরাগী সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি (১.৪ মিলিয়ন)। একদিকে ছেলেই এখন বিশ্ব ফুটবলের নয়নের মণি, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন মুনির। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে খ্রিষ্টিনা (Khristina) নামের এক তরুণীর সঙ্গে এনগেজমেন্ট বা আংটি বদলের কথা নিজেই সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
জীবন সংগ্রাম
দারিদ্র্য, ভাঙা সংসার এবং জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পার করে নিজের ছেলেকে বিশ্বসেরা বানানোর লড়াইয়ে মুনির নাসরাউই আজ কেবল এক ফুটবলারের বাবা নন, বহু লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।