‘ভাড়াটে গরবা পার্টনার’ বিতর্ক: হাজারে মিলবে সঙ্গিনী! নেটপাড়ায় তুঙ্গে প্রচার, তদন্তের দাবিতে সরব হিন্দুত্ববাদী সংগঠন
আসন্ন নবরাত্রির আগেই গুজরাটে জোর বিতর্ক সৃষ্টি করেছে ‘রেন্ট এ গরবা পার্টনার’ (Rent A Garba Partner) সংক্রান্ত একাধিক ভাইরাল বিজ্ঞাপন। ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকার আকর্ষণীয় প্যাকেজে গরবায় অংশ নেওয়ার জন্য সঙ্গী বা সঙ্গিনী ভাড়া দেওয়ার এই প্রস্তাব ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যমে।
‘Rent a Garba Partner’ Controversy: আসন্ন নবরাত্রির আগেই গুজরাটে জোর বিতর্ক সৃষ্টি করেছে ‘রেন্ট এ গরবা পার্টনার’ (Rent A Garba Partner) সংক্রান্ত একাধিক ভাইরাল বিজ্ঞাপন। ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকার আকর্ষণীয় প্যাকেজে গরবায় অংশ নেওয়ার জন্য সঙ্গী বা সঙ্গিনী ভাড়া দেওয়ার এই প্রস্তাব ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। ঘটনাটি নজরে আসতেই আমদাবাদ সাইবার ক্রাইম সেল সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে অপরিচিত অ্যাকাউন্টে টাকা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। বহু পোস্টই ব্যঙ্গাত্মক বা ‘মিম’ হিসেবে শুরু হলেও আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কায় পুলিশ কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, বজরং দল ও স্থানীয় অধিবাসীরা একে উৎসবের অবমাননা আখ্যা দিয়ে কড়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কী রয়েছে এই ভাইরাল প্যাকেজগুলোতে?
মূলত ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আমেদাবাদ, সুরাট ও সংলগ্ন এলাকায় ছড়ানো এই বিজ্ঞাপনে রকমারি প্যাকেজ অফার করা হচ্ছে।
সিলভার প্যাকেজ (Silver Package): ১,০০০ টাকার বিনিময়ে দুই ঘণ্টার জন্য গরবা খেলার সঙ্গী মিলবে। এতে পোশাকের মিল (Matching Outfits), মৌলিক নাচের শিক্ষা এবং সেলফি তোলার সুযোগ রয়েছে।
গোল্ড প্যাকেজ (Gold Package): ১,৫০০ টাকায় চার ঘণ্টার সময়সীমা। সঙ্গে রিলস তৈরি, ছবি তোলা এবং দু'জনের আলাপ কীভাবে হলো, তার একটি কাল্পনিক 'ব্যাকস্টোরি' তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্ল্যাটিনাম প্যাকেজ (Platinum Package): ২,০০০ টাকার এই প্যাকেজে পুরো রাতের জন্য সঙ্গ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। কিছু বিজ্ঞাপনে সাজগোজ সামলে দেওয়া থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান শেষে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার মতো অফারও অন্তর্ভুক্ত।
কোথাও কোথাও আবার এনআরআই (NRI) পার্টনার বা এর চেয়েও বেশি মূল্যের প্রিমিয়াম পরিষেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সাইবার পুলিশের কড়া সতর্কবার্তা
আমদাবাদ সাইবার ক্রাইম সেলের এসিপি হার্দিক মান্দাকিয়া জানান, বিগত ৫-৬ দিন ধরে পুলিশ এই ধরনের পোস্টগুলোর ওপর নজর রাখছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে কেবল ফলোয়ার ও এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পোস্টগুলি শেয়ার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি ছবি ও কন্টেন্ট ব্যবহার করে একাধিক প্রোফাইল থেকে এই ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ে।
সাইবার ক্রাইম সেল-এর পরামর্শ:
- কেবল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখে অচেনা অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবেন না।
- অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
- প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত স্থানীয় সাইবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সুরাট পুলিশও স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই পোস্টগুলি কড়া স্ক্রুটিনির অধীনে রয়েছে এবং কোনও সন্দেহজনক বা অনৈতিক কাজ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এটি কি সত্যিই কোনও পরিষেবা নাকি স্রেফ রসিকতা?
তদন্তে উঠে এসেছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কৃশ মিস্ত্রি নামক এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী “দিস নবরাত্রি, ডোন্ট ডান্স অ্যালোন” (This Navratri, don’t dance alone) ক্যাপশন দিয়ে প্রথম এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি করেন। বিতর্ক দানা বাঁধায় ও অতিরিক্ত প্রচার পাওয়ায় তিনি পরবর্তীতে জানান, পোস্টটি কেবল মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল এবং পরে তা মুছেও ফেলা হয়।
তবে এর দেখাদেখি আমেদাবাদ, সুরাট এবং মুম্বইয়ের একাধিক পেজ একই ধরনের পোস্ট করতে শুরু করে। বেশ কয়েকটি পেজের অ্যাডমিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার বাড়াতেই তারা এই ‘মিম’ পোস্ট করেছিলেন, বাস্তবে ভাড়া দেওয়ার মতো কোনও পার্টনার নেই।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় সংগঠন ও বজরং দল
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলি। সুরাটের বজরং দল কর্মী প্রতাপ রাজপুরোহিত বলেন, ''নবরাত্রি মা দুর্গার আরাধনা, ভক্তি ও আমাদের সনাতন সংস্কৃতির উৎসব। এটিকে এভাবে সঙ্গী খোঁজার মাধ্যম বানিয়ে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। সাধারণ মানুষের উচিত এই ধরণের প্ররোচনা থেকে দূরে থাকা।'' গুজরাট বজরং দলের রাজ্য সহ-আহ্বায়ক জ্বলিত মেহতা পুলিশ প্রশাসনকে এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,''সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের তোয়াক্কা না করে মা শক্তির উৎসবকে অপমান করার চেষ্টা চলছে। নবরাত্রিতে মানুষ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যোগ দেন, এখানে 'ভাড়াটে পার্টনার'-এর কোনও প্রয়োজন নেই।''
দেখুন ভিডিও
উৎসবের প্রস্তুতি ও নজরদারি
নবরাত্রি উৎসব গুজরাটের অন্যতম প্রধান উদযাপনের মাধ্যম, যা সোসাইটি, পার্টি প্লট ও বড় বড় মাঠে ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। উৎসব যত এগিয়ে আসছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোশাক, টিকিট এবং পাস সংক্রান্ত পোস্ট ততই বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে কেউ টাকা খুইয়েছেন, এমন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি, তবুও প্রচারের আড়ালে বড়সড় প্রতারণা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।