Nuclear Tests Earthquake: পরমাণু পরীক্ষার জেরে ১৩৯৯টি ভূমিকম্প? ২০১৩ থেকে কাঁপছে উত্তর কোরিয়ার পাহাড়
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র মান্টাপ (Mount Mantap) পর্বতের নিচে গত কয়েক বছরে লাগাতার কেন ভূমিকম্প হচ্ছে? বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য।
Nuclear Tests Earthquake: উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র মান্টাপ (Mount Mantap) পর্বতের নিচে গত কয়েক বছরে লাগাতার কেন ভূমিকম্প হচ্ছে? বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে অন্তত ১,৩৯৯টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই অস্বাভাবিক ভূকম্পনের মূল কারণ উত্তর কোরিয়ার ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী পারমাণবিক বিস্ফোরণ!
বিশেষ করে ২০১৭ সালে কিম জং উনের দেশের ষষ্ঠ তথা সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষার পর থেকেই মান্টাপ পর্বতের ভূতাত্ত্বিক গঠনে বিপজ্জনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
২০০০ বছর শান্ত থাকার পর হঠাৎ কেন উত্তাল পাহাড়?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মোট ৬টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, মান্টাপ পর্বত এবং তার চারপাশের এলাকা প্রায় ২০০০ বছর ধরে ভূকম্পীয় দিক থেকে অত্যন্ত শান্ত ছিল।
প্রথম সঙ্কেত (২০১৩): উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার পর ২০১৩ সালে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বিশাল বিস্ফোরণ ও ধস (২০১৭): ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার সময় ৬.৩ মাত্রার কম্পন সৃষ্টি হয়। এতে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে এবং পর্বতের শীর্ষভাগ প্রায় ৩ মিটার স্থানচ্যুত হয়।
কেন থামছে না ভূকম্পন?
সাধারণত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর কিছুদিন ছোটখাটো কম্পন হলেও সময়ের সাথে তা কমে যায়। কিন্তু মান্টাপ পর্বতের ক্ষেত্রে চিত্রটা উল্টো, সময় বাড়ার সাথে সাথে ভূমিকম্পের সংখ্যা এবং তীব্রতা দুটোই বাড়ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ২০১৭ সালের সেই বিশাল বিস্ফোরণের ফলে:
১. বহু বছর ধরে ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় থাকা ভূগর্ভস্থ ফাটলগুলি (Dormant Faults) পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
২. শিলাস্তরে নতুন অসংখ্য ফাটল তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে জল ঢুকে ভূগর্ভস্থ চাপ (Pore Pressure) বাড়িয়ে দিচ্ছে।
৩. এর ফলে শিলাস্তর পিছলে গিয়ে অনবরত ২ থেকে ৩ মাত্রার ছোট ছোট ভূমিকম্প ঘটাচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী ভূতাত্ত্বিক হুমকির মুখে অঞ্চলটি
২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ভূকম্পনই তুলনামূলকভাবে মৃদু এবং মাটির কম গভীরে ঘটছে। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভূকম্পীয় কার্যকলাপ প্রমাণ করে যে ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে প্রকৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও বহু বছর সময় নেবে।